“আজাদ কাশ্মীর”-“ফ্রি প্যালেস্টাইন”—JU-তে দেশবিরোধী পোস্টার, FIR কলকাতা পুলিশের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে দেশবিরোধী গ্রাফিতি এবং পোস্টার লাগানোর অভিযোগে বাম ছাত্র সংগঠন পিডিএসএফ-এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কলকাতা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের কাছে, প্রযুক্তি ভবনের বিপরীতের দেয়ালে “আজাদ কাশ্মীর”, “আজাদ মণিপুর”, “দেওচা পাচামি” সহ বিভেদমূলক বার্তা লেখা দেখা যাওয়ার পর যাদবপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মামলা দায়ের করে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশের পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পিডিএসএফ-এর অজ্ঞাত সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির (বিএনএস) ৬১(২) এবং ১৫২ ধারায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া তথ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, দেয়ালে লেখা এই ধরনের শ্লোগান ও বার্তা দেশের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

দেয়াল লিখনের বিবরণ
প্রযুক্তি ভবনের বিপরীতের দেয়ালে “আজাদ কাশ্মীর” শ্লোগানের পাশাপাশি “Free Palestine”, “লাদাখ”, “মণিপুর”, “দেওচা-পাচামি” সহ একাধিক স্থানের নাম লেখা দেখা গেছে। এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে “আজাদ কাশ্মীর” সমর্থিত দেয়াল লিখন নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। এবার নতুন করে এই ঘটনা আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

যাদবপুরে রাজনৈতিক বিতর্কের ইতিহাস
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক চর্চা এবং বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে এই ধরনের লিখন নতুন নয়, তবে এবারের বার্তাগুলি দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে বড় আকারে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। “আজাদ কাশ্মীর” ও “আজাদ মণিপুর” শ্লোগানের পাশাপাশি দেওচা-পাচামি প্রকল্পের বিরোধিতা এবং অন্যান্য বিষয়ের উল্লেখ থাকায় এই ঘটনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তদন্তে পুলিশ
যাদবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দেয়াল লিখনের ছবি সংগ্রহ করেছে। কারা এই শ্লোগান লিখেছে, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পিডিএসএফ-এর কিছু সমর্থক এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
এই ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এবং বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেখানে কিছু ছাত্র সংগঠন এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে দাবি করছে, অন্যদিকে অনেকে এটিকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেনি।

নতুন এই বিতর্কের পর যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে এবং এর পরিণতি কী হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সবার।