সোনার দোকানে ভয়ঙ্কর ডাকাতি! ২৫ কোটি টাকার গয়না লুট, দেখেনিন লুট করার ভিডিও

বিহারের আরাহ শহরে একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে তানিষ্কের একটি জুয়েলারি শোরুমে পাঁচ থেকে ছয় জনের একটি সশস্ত্র দল ঢুকে পড়ে এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি শোরুমে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা এখন ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

এই দুঃসাহসিক ডাকাতি গোপাল চক শাখায়, আরাহ পুলিশ স্টেশন এলাকায়, দিনের আলোতে ঘটেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর শেয়ার করা ফুটেজ অনুযায়ী, ঘটনাটি সোমবার সকাল ১০:৩০ টায় শোরুম খোলার পরপরই সংঘটিত হয়। পাঁচ থেকে ছয় জন সশস্ত্র ডাকাত, যাদের মুখে মুখোশ এবং মাথায় হেলমেট ছিল, হঠাৎ দোকানে প্রবেশ করে। ফুটেজে দেখা যায়, তারা নিরাপত্তা রক্ষীদের পরাস্ত করে এবং গ্রাহক ও কর্মীদের বন্দুকের মুখে বন্দী করে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা?

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ডাকাতরা গ্রাহক ও কর্মীদের এক কোণে জড়ো করে হাত তুলে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এরপর তারা দ্রুত শোরুমের শোকেস থেকে চেইন, নেকলেস, বালা এবং কিছু হীরার গয়না ব্যাগে ভরতে থাকে। ভিডিওতে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্তে দেখা যায়, একজন কর্মী শোরুমে প্রবেশ করছেন, এবং দুজন ডাকাত তাকে ধরে বারবার আঘাত করে। এছাড়া, নিরাপত্তা রক্ষীর বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে তাকেও বন্দুকের মুখে রাখা হয়। ডাকাতরা প্রায় ৩০ মিনিট শোরুমের ভিতরে অবস্থান করে, কোনো সন্দেহ না জাগিয়ে তাদের কাজ সম্পন্ন করে পালিয়ে যায়।

শোরুম ম্যানেজারের বক্তব্য

শোরুম ম্যানেজার কুমার মৃত্যুঞ্জয় জানিয়েছেন, ডাকাতরা প্রায় ২৫ কোটি টাকার গয়না লুট করেছে। এছাড়া নগদ টাকাও লুট হয়েছে, যার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “চেইন, নেকলেস, বালা এবং কিছু হীরার গয়না লুট হয়েছে। আমরা এখনো নগদ টাকার পরিমাণ গণনা করছি।”

পুলিশের উপর ক্ষোভ

মৃত্যুঞ্জয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি কর্তৃপক্ষের একটি বড় ত্রুটি। ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটেছে, সন্ধ্যা বা রাতে নয়। আমরা বারবার পুলিশকে ফোন করেছিলাম, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। পুলিশ যদি সময়মতো পৌঁছত, তাহলে হয়তো ডাকাতদের ধরা সম্ভব হতো।” তিনি আরও জানান, দুজন কর্মী ডাকাতদের আঘাতে আহত হয়েছেন, যাদের মাথায় বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করা হয়।

তদন্ত শুরু

ঘটনার পর ভোজপুরের পুলিশ সুপার রাজ জানিয়েছেন, পাঁচ থেকে ছয় জন অপরাধী এই ডাকাতিতে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছি।” পুলিশের তৎপরতায় ডাকাতদের পালানোর সময় একটি এনকাউন্টার হয়, যেখানে দুজন অপরাধী গুলিবিদ্ধ হয় এবং গ্রেপ্তার হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, ১০টি কার্তুজ, লুট করা গয়না এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দিনদুপুরে এমন একটি বড় ডাকাতির ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে সহায়তার জন্য তানিষ্কের পক্ষ থেকেও পুলিশকে সব ধরনের তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনা বিহারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় জুয়েলারি শোরুম ডাকাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পুলিশ এখন বাকি অপরাধীদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে।

সূত্র: পিটিআই