বিশেষ: বিরল ব্লাড গ্রুপ, বিশ্বে মাত্র ১০ জনের শরীরে রয়েছে এই রক্ত, জেনেনিন গ্রুপের নাম?

রক্তের গ্রুপ নিয়ে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। কিন্তু কখনও ভেবেছেন, এমন একটি রক্তের গ্রুপ থাকতে পারে যা পৃথিবীতে মাত্র ১০ জনের শরীরে রয়েছে? গবেষকরা জানাচ্ছেন, ‘EMM’ নামে এই রক্তের গ্রুপটিই বিশ্বের বিরলতম। সম্প্রতি ভারতের গুজরাটে ৬৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তির শরীরে এই বিরল রক্তের সন্ধান মিলেছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
‘আমেরিকান রেড ক্রস’-এর তথ্য অনুযায়ী, যে রক্তের গ্রুপ প্রতি এক হাজার জনে একজনের শরীরে পাওয়া যায়, তাকে ‘বিরল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, ও নেগেটিভ (O-) এমনই একটি বিরল গ্রুপ। কিন্তু ‘EMM’ গ্রুপটি তার চেয়েও অনেক বেশি বিরল। এই গ্রুপের রক্তধারী ব্যক্তিরা অন্যদের রক্ত দিতে এবং গ্রহণ করতে পারেন, যা এটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। শারীরবিদ্যায় এটি ABO গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হলেও এর বৈশিষ্ট্য এটিকে অনন্য করে।
গুজরাটে আবিষ্কারের গল্প
গুজরাটের এই ৬৫ বছর বয়সি ব্যক্তি হৃদরোগজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসার জন্য তার সার্জারি প্রয়োজন হয়, আর তখনই রক্তের প্রয়োজন পড়ে। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সময় প্যাথোলজিস্টরা রীতিমতো অবাক হয়ে যান। রিপোর্টে দেখা যায়, তার রক্তের গ্রুপ ‘EMM’, যা এতদিন পৃথিবীতে মাত্র ৯ জনের শরীরে পাওয়া গিয়েছিল। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের দশম ব্যক্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেন।
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন (ISBT) এই রক্তের গ্রুপটিকে ‘EMM নেগেটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতে এটিই প্রথম এমন ঘটনা, যা চিকিৎসা জগতে বিরলতম রক্তের গ্রুপের প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
কেন এত বিরল?
গবেষকদের মতে, ‘EMM’ গ্রুপের রক্তে এমন কিছু অ্যান্টিজেন রয়েছে, যা এটিকে অন্য সব গ্রুপ থেকে আলাদা করে। এই গ্রুপের রক্তধারী ব্যক্তিদের রক্ত অন্যদের দেওয়া যায় এবং তারা অন্যদের রক্তও গ্রহণ করতে পারেন। তবে এই গ্রুপটি এতই বিরল যে, বিশ্বে এর উপস্থিতি হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর আগে ৯ জনের শরীরে এই রক্ত পাওয়া গিয়েছিল, এবং গুজরাটের এই ঘটনা নতুন করে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
চিকিৎসা ও আত্মীয়দের জন্য চ্যালেঞ্জ
নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ যেমন O-, AB-, বা B- এর ক্ষেত্রে জরুরি সময়ে রক্ত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনই ‘EMM’ গ্রুপের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও জটিল। এই গ্রুপের রক্তধারীদের জন্য সঠিক ডোনার খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তবে এই ক্ষেত্রে গুজরাটের ওই ব্যক্তির চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়া
এই আবিষ্কারকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন গবেষকরা। এটি রক্তের গ্রুপ নিয়ে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। গুজরাটের এই ঘটনা ভারতের চিকিৎসা ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
এই বিরল রক্তের গ্রুপের সন্ধান সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল জাগিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই আবিষ্কারকে ‘বিজ্ঞানের অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে এই বিরলতা যতটা আকর্ষণীয়, ততটাই চ্যালেঞ্জিং—বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে।