“জিজ্ঞাসাবাদের নামে পড়ুয়াদের পুলিশ…”- আদালতে ছুটলেন যাদবপুরের ছাত্র

গত ১০ দিন ধরে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে ঘিরে বিতর্ক, উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ ক্রমশ চরমে উঠেছে। এবার পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রনেতা।

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে মামলা করেন উদ্দীপন কুন্ডু। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন ‘ফেটসু’-র নেতা। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের বারবার থানায় ডেকে পাঠানো হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্থা করা হচ্ছে।

তিনি আদালতে জানান, গত ৭ মার্চ পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। ছাত্ররা থানায় হাজিরা দিলেও, পুলিশ তাঁদের মোবাইল চেয়ে বসে, যা নিয়ে ছাত্ররা আপত্তি জানান। এরপর থেকেই তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সোমবার ফের তাঁদের থানায় তলব করা হয়েছে।

উদ্দীপন কুন্ডু হাইকোর্টে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। বিচারপতি আগামীকাল (মঙ্গলবার) ফের মামলাটি মেনশন করার নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১ মার্চ ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ ওঠে, সভার দিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলে।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় ইন্দ্রানুজ রায় নামে এক ছাত্র আহত হন। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্র বিক্ষোভ চরমে ওঠে।

এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে যাদবপুরের পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। এবার ছাত্রদের হয়রানির অভিযোগ নিয়েও হাইকোর্টে মামলা হল।

আগামী দিনে এই মামলা কোন দিকে মোড় নেয় এবং হাইকোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়ে নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।