SPORTS: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে চূড়ান্ত অসম্মান, ‘ক্ষুব্ধ’ হল পাকিস্তান, জেনেনিন কেন?

এবারের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ ছিল পাকিস্তান। কিন্তু টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতের দাপুটে জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোনও প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতলেও, আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান যেন নামেই সীমাবদ্ধ রইল। আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহ রোহিতের হাতে ট্রফি তুলে দেন, আর বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রজার বিনি পরিয়ে দেন সেই আইকনিক সাদা ব্লেজার। কিন্তু পিসিবি-র কোনও কর্তা বা প্রতিনিধির জায়গা হল না মঞ্চে। এই ঘটনায় পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচও হাতছাড়া পাকিস্তানের
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান ২৯ বছর পর কোনও বড় আইসিসি টুর্নামেন্টের দায়িত্ব পেয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তারা পাকিস্তানে খেলতে যাবে না। ফলে আইসিসি একটি হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করে, যেখানে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাকি ম্যাচগুলি পাকিস্তানের করাচি, লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডিতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্সের জেরে ফাইনালে উঠে যাওয়ায়, শেষ ম্যাচটিও দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দুটোই পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনকী গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের কাছে হেরে পাকিস্তান নিজেদের মাটিতেও টিকতে পারেনি।
পুরস্কার মঞ্চে পাকিস্তানের অনুপস্থিতি
ফাইনালের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ, বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রজার বিনি ও সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়ার সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতিনিধি রজার টোয়েস উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আয়োজক দেশের কোনও প্রতিনিধি মঞ্চে জায়গা পাননি। পিসিবি-র প্রধান অপারেটিং অফিসার সুমাইর আহমেদ, যিনি টুর্নামেন্টের ইভেন্ট ডিরেক্টরও ছিলেন, দুবাইয়ে উপস্থিত থাকলেও তাঁকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পিসিবি-র বক্তব্য, আয়োজক দেশকে এভাবে উপেক্ষা করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অপমানজনক।
শোয়েব আখতারের তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ পাকিস্তানের প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার শোয়েব আখতার। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ লিখেছেন, “ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে। কিন্তু একটা অদ্ভুত জিনিস দেখলাম—পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কোনও প্রতিনিধি পুরস্কার বিতরণীতে ছিল না। পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ, তবু কেউ ছিল না ট্রফি দিতে। এটা আমার বোধগম্য নয়। এটা বিশ্ব মঞ্চ, সেখানে আমাদের থাকা উচিত ছিল। খুবই দুঃখজনক লাগছে।” শোয়েবের এই মন্তব্য পাকিস্তানি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।
পাকিস্তানের জন্য এক ‘বড় হার’
২৯ বছর পর আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পেয়েও পাকিস্তানের জন্য এটি একটি বড় ব্যর্থতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের দল গ্রুপ পর্বে ব্যর্থ হয়েছে, তার ওপর ভারতের ম্যাচগুলি দুবাইয়ে খেলানোর সিদ্ধান্ত এবং ফাইনালে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় দেশটির ক্রিকেট বোর্ড চূড়ান্তভাবে লজ্জিত হয়েছে। পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে এই ঘটনাকে ‘বিশ্ব মঞ্চে অপমান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এই উপেক্ষার জন্য আইসিসি এবং বিসিসিআই-এর প্রতি পাকিস্তানের ক্ষোভ আরও তীব্র হবে।
এদিকে, ভারতের জয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে অপরাজিত থেকে ট্রফি জয়ের এই কৃতিত্ব ভারতীয় ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের আরও একটি প্রমাণ। তবে পাকিস্তানের জন্য এই টুর্নামেন্ট শুধুই হতাশা আর অপমানের স্মৃতি রেখে গেল।