বিশেষ: ৫০ হাজারেই দুর্দান্ত চলবে সংসার, জমবে টাকাও হবে ঘোরাও, জানুন ফান্ডাটা

কর্মজীবী মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাঁদের মাসিক বাজেট সঠিকভাবে পরিচালনা করা। বেশিরভাগ বেতনভোগী কর্মচারী মাসের শেষ তারিখ পর্যন্ত টাকা সঞ্চয় করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে তাঁদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অনেকে ঋণ নিয়ে খরচ চালান, আবার কেউ কেউ বিনিয়োগ করা টাকা তুলে নিয়ে মাসিক খরচ মেটান। এই ধরনের পরিস্থিতি তাঁদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। তবে, একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এই পরিকল্পনা শুধু আপনার মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখবে না, বরং বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভের পথও খুলে দেবে। কীভাবে এটি করবেন, আসুন জেনে নিই।

বাজেট পরিচালনার প্রথম ধাপ: তিনটি বিভাগ তৈরি করুন
মাসিক বাজেট ঠিক করতে প্রথমে আপনার আয়কে তিনটি বিভাগে ভাগ করতে হবে— চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা এবং বিনিয়োগ। আপনার মোট আয়ের ৪০ শতাংশ চাহিদার জন্য, ২৫ শতাংশ আকাঙ্ক্ষার জন্য এবং ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগের জন্য রাখতে হবে। এই ভাগাভাগি আপনার আর্থিক জীবনকে সুশৃঙ্খল করবে।

৫০ হাজার টাকা বেতনের বাজেট কীভাবে করবেন?
ধরা যাক, আপনার মাসিক বেতন ৫০ হাজার টাকা। এই পরিমাণকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যেতে পারে:

চাহিদা (৪০% = ২০,০০০ টাকা): এই অংশে বাড়ি ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ বিল, পোশাক এবং ভ্রমণের মতো প্রয়োজনীয় খরচ অন্তর্ভুক্ত হবে। এই ২০ হাজার টাকা দিয়ে আপনার দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।
আকাঙ্ক্ষা (২৫% = ১২,৫০০ টাকা): এই অংশে আপনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন। যেমন, বাইক বা ফোনের ইএমআই, একটি ছোট ছুটির ভ্রমণের জন্য ৪,০০০ টাকা সঞ্চয়, বা ২,৫০০ টাকায় রেস্তোরাঁয় একটি ডিনার পার্টি। এটি আপনার জীবনযাত্রার মান বজায় রাখবে।
বিনিয়োগ (৩৫% = ১৭,৫০০ টাকা): বাকি ১৭,৫০০ টাকা বিনিয়োগ ও জরুরি তহবিলের জন্য রাখা হবে। এর মধ্যে ১১,০০০ টাকা মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ার, সোনা বা সরকারি স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারেন। ২,৫০০ টাকা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে জরুরি তহবিল হিসেবে রাখুন। এছাড়া, ২,০০০ টাকায় টার্ম ইন্স্যুরেন্স এবং ২,০০০ টাকায় স্বাস্থ্য বীমা নিতে পারেন।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সঠিক উপায়
যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে চান, তবে পুরো টাকা একটি ফান্ডে না রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। লার্জ ক্যাপ, ফ্লেক্সি ক্যাপ এবং মিড ক্যাপ ফান্ডে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কমবে এবং লাভের সম্ভাবনা বাড়বে। এইভাবে সুপরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করলে আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকবে।

এই সহজ সূত্রের মাধ্যমে আপনি আপনার বেতনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, সঞ্চয় বাড়বে এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে পারবেন। পরিকল্পনা করুন, সচেতন থাকুন এবং আর্থিক স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যান।