বিশেষ: ন্যাড়াপোড়ার ছাই থেকেই আসতে পারে অর্থ-সম্পত্তি, কীভাবে করবেন?

হোলি বা দোল উৎসব শুধুমাত্র রঙের খেলা ও আনন্দের সময় নয়, এটি বাস্তুদোষ দূর করার একটি বিশেষ সুযোগও বটে। বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ এই উৎসবকে নানা নামে পালন করেন। উত্তর ভারত, নেপাল এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে হোলির আগের রাতে ঐতিহ্যগতভাবে আগুন জ্বালানো হয়, যাকে বলা হয় ‘হোলিকা দহন’। বাংলায় এটি পরিচিত ‘ন্যাড়া পোড়ানো’ নামে। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, এই দিনে কিছু সহজ উপায় পালন করলে বাড়ির বাস্তুদোষ কেটে যায় এবং সুখ, সমৃদ্ধি ও অর্থের আগমন ঘটে।

বাস্তুদোষ বাড়িতে থাকলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়। এটি উন্নতির পথে বাধা, শারীরিক সমস্যা থেকে শুরু করে যেকোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির ভুল দিক দর্শন বা আমাদের নিজেদের ভুল কাজের জন্য এই দোষ দেখা দেয়। হোলির সময় এই দোষ দূর করতে চারটি বিশেষ টিপস পালন করতে পারেন।

হোলির সময় বাস্তুদোষ দূর করার চারটি টিপস:
১. হোলিকা দহনে গম নিবেদন ও পরিক্রমা:

হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়ানোর সময় আগুনে তাজা ও কাঁচা গম নিবেদন করুন। এটি বাড়ির জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এই প্রতিকারে ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তির আগমন ঘটে। এই দিনে হোলিকার আগুনের চারপাশে অন্তত সাতবার পরিক্রমা করুন। তারপর সেই আগুন থেকে একটু আগুন বাড়িতে এনে উত্তর-পূর্ব দিকে রাখুন। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এটি ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি ধরে রাখে।

২. ভাঙা আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলুন:

হোলিকা দহনের সময় ঘরে কোনও ভাঙা আসবাবপত্র রাখবেন না। বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়, পুরানো ও ভাঙা জিনিসে নেতিবাচক শক্তি জমে থাকে। তাই এই সময়ে এগুলো ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত। এটি বাড়ির পরিবেশকে শুদ্ধ করে এবং ইতিবাচকতা বাড়ায়।

৩. ঘরের কোণ পরিষ্কার রাখুন:

দোলের আগে বাড়ির প্রতিটি কোণ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব কোণ যেন নোংরা না থাকে। বাস্তু অনুসারে, এই দিকটি ঈশ্বরের বাসস্থান বলে বিবেচিত হয়। এটি পরিষ্কার না থাকলে বাড়িতে সমৃদ্ধি আসতে বাধা পড়ে। পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে নেতিবাচক শক্তি দূর করে ঘরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

৪. ন্যাড়া পোড়ানোর ছাইয়ের বিশেষ টোটকা:

হোলিকা দহনের ছাইকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। এই ছাই বাড়িতে এনে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে রাখুন। এটি বাস্তুদোষ দূর করার পাশাপাশি ঘরের নেতিবাচক শক্তি নির্মূল করে। এছাড়া, নজরদারি থেকে রক্ষা পেতে স্নানের পর এই ছাই কপালে ও গলায় লাগান। বিশ্বাস করা হয়, এতে কেউ আপনার উপর খারাপ নজর দিতে পারবে না।

বাস্তুদোষের প্রভাব ও প্রতিকারের গুরুত্ব:
বাস্তুশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তুদোষ শুধু ঘরের গঠনগত ত্রুটির কারণেই নয়, আমাদের দৈনন্দিন ভুল কাজের জন্যও সৃষ্টি হয়। হোলির মতো পবিত্র উৎসব এই দোষ দূর করার জন্য একটি আদর্শ সময়। এই সময়ে আগুন জ্বালানো ও প্রতিকার পালনের মাধ্যমে ঘরের পরিবেশ শুদ্ধ হয় এবং জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে।

উৎসবের তাৎপর্য:
হোলি বা দোল শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক। হোলিকা দহনের মাধ্যমে নেতিবাচকতার অবসান ঘটিয়ে নতুন শুরুর সূচনা হয়। তাই এই সময়ে বাস্তু টিপস পালন করে আপনি আপনার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেন।

হোলির আনন্দের সঙ্গে এই সহজ প্রতিকারগুলো পালন করুন এবং বাড়িতে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির পরিবেশ তৈরি করুন।