“বহিরাগতরা ভোট দিতে এলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে'”- হুঙ্কার TMC বিধায়কের

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পান্ডবেশ্বরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর এক বেপরোয়া মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে তৃণমূলের বুথ কর্মী সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভিন রাজ্য থেকে কেউ পান্ডবেশ্বরে ভোট দিতে এলে তাদের হাত-পা গোটা থাকবে না। হরিয়ানা থেকে এসে কেউ ভোট দিয়ে যাবেন, আর আমরা আইসক্রিম খাবো—তা হয় না।” এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, একজন সাংবিধানিক পদে থাকা বিধায়ক কীভাবে এমন হুমকি দিতে পারেন, যা পুলিশ-প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও চ্যালেঞ্জ করে।
নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ব্লকভিত্তিক বুথ কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সম্মেলনে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, যিনি পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিও, দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “বহিরাগতরা এসে ভোট দিলে তাদের ডান্ডা মেরে এলাকাছাড়া করা হবে। একটারও হাত-পা ভাঙা ছাড়া ছাড়ব না।” এই বক্তব্যে তিনি শুধু বহিরাগত ভোটারদের প্রতিই হুমকি দেননি, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “কোনও পঞ্চায়েত সদস্য বা দলীয় কর্মী যদি গরিবের বাড়ি তৈরির জন্য পার্টির নাম করে টাকা তোলেন, নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন, তাহলে জানবেন—পাপ বাপকেও ছাড়ে না। ওই টাকা আপনার বাবার শ্রাদ্ধে কাজে লাগবে।” এছাড়াও, তিনি দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যিনি দেওয়াল লেখেন, তিনি পান্ডবেশ্বরে চাকরি পাবেন। কেউ না দিলে আমি ৫০ জন লেঠেল বাহিনী নিয়ে গিয়ে ঠিকদারের কাজ বন্ধ করে দেব। যে যা বলে বলুক, আমি পরোয়া করি না।”
বিরোধীদের কটাক্ষ:
এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘোড়ুই। তিনি বলেন, “পান্ডবেশ্বরে হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল বিধায়ক এসব ভুলভাল বকছেন। আমরাই তো বলেছি, মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচে না, তৃণমূল ঠিক তেমনি টাকা ছাড়া বাঁচে না। এখন পিঠ বাঁচাতে জেলা সভাপতি এসব বলছেন, কিন্তু মানুষ আর তৃণমূলের উপর ভরসা করছে না।” বিরোধীরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য কি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল নয়? পুলিশ ও কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা।
পূর্বের বিতর্ক:
নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এর আগেও বেশ কয়েকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। ২০২২ সালে আসানসোল উপনির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “ভোট দিতে গেলে ধরে নেব আপনি বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন। ভোটের পর আপনি কোথায় থাকবেন, সেটা আপনার রিস্ক।” এছাড়া, ২০২৪ সালে তিনি নগদ টাকা বিলির অভিযোগে শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূলের তরফে এখনও এই মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বক্তব্য নির্বাচন কমিশনের নজরে এলে নরেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পান্ডবেশ্বরের এই ঘটনা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশিত।