আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নজরদারি করতে পারবে IT! নতুন বিলে শুরু তোলপাড়

বাজেটের পরই কেন্দ্রীয় সরকার বড় চমক দিয়েছে। নতুন আয়কর বিল পেশ করা হয়েছে সংসদে, যার উদ্দেশ্য আয়কর আইনের আরও সরলীকরণ করা। তবে, এই বিল নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক, বিশেষ করে এর মধ্যে থাকা একটি বিশেষ ধারার কারণে। দাবি উঠছে, এই নতুন আয়কর বিলে আয়কর বিভাগকে যে কোনও ব্যক্তির ইমেইল, ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নজরদারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

নতুন আয়কর বিলের ২৪৭ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আয়কর আধিকারিকরা এখন থেকে ডিজিটাল সম্পত্তির অ্যাক্সেস নিতে পারবেন। এটি মানে যে, যদি কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি কর ফাঁকি দিচ্ছেন বা হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন, তবে আধিকারিকরা তার ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, ব্যাঙ্ক ডিটেইলস এবং ইনভেস্টমেন্ট অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস চাইতে পারবে। এমনকি, যদি কেউ পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকার করেন, তবে সিকিউরিটি সেটিং ভেঙে ফাইল আনলক করতেও তারা সক্ষম হবেন।

এই পরিবর্তন সামনে আসতেই বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানাচ্ছেন, সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ না হলে, আয়কর বিভাগের এই অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে, এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘনও ঘটতে পারে। বিশেষত, ডিজিটাল স্পেসে একে অপরের যোগাযোগ এবং প্রাইভেট তথ্যগুলো নজরদারির মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা অনেকের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে, আয়কর আধিকারিকরা তদন্তের প্রয়োজনে ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ এবং ইমেইলের অ্যাক্সেস চাইতে পারে, তবে তাদের মধ্যে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল না। নতুন বিলের মধ্যে এই বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, যা অনেককে চিন্তিত করে তুলেছে।

এদিকে, এই বিল পেশ হওয়ার পরেই সিলেক্ট কমিটি এর পর্যালোচনা করবে এবং যদি সম্মতি পাওয়া যায়, তবে এটি আয়কর আইনে পরিণত হতে পারে। তবে এই নতুন বিল সম্পর্কে এখনও অনেক প্রশ্ন উঠছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

এখন দেখার বিষয় হবে, এই নতুন আইনের বাস্তবায়ন কিভাবে হয় এবং এর ফলে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর কী প্রভাব পড়বে।