নোবেল জয়ী বিজ্ঞানীর সঙ্গে ‘রোজা’ ও ‘ক্যান্সার’কে জড়িয়ে মিথ্যে প্রচার, জানুন আসল সত্যি!

ইসলাম ধর্মের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় রোজা রাখা শুরু করেছেন। এই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জাপানের নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমির নামে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, রোজা নিয়ে গবেষণা করে ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ওহশোমি। এতে আরও বলা হয়েছে, তাঁর গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে রোজা রাখলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয় এবং মানবদেহে নানা উপকারিতা দেখা দেয়।

পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “এই সেই জাপানি বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি, যিনি রোজা নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি আবিষ্কার করেছেন যে ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা রোজা রাখলে মানুষের দেহে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া চালু হয়। তাঁর গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, রোজার মাধ্যমে মানুষের দেহে নানা উপকার হয়, যেমন— দেহের সেল পরিষ্কার হয়, ক্যান্সার সেল ধ্বংস হয় ইত্যাদি।”

তবে ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে, এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইয়োশিনোরি ওহশোমি রোজা বা উপবাস নিয়ে কোনো গবেষণা বা মন্তব্য করেননি। বরং তিনি ‘অটোফ্যাজি’ নামক কোষীয় প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন।

কীভাবে জানা গেল সত্য?

প্রথমে নোবেল প্রাইজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে দেখা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়োশিনোরি ওহশোমি অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এই প্রতিবেদনে কোথাও ‘রোজা’ বা ‘উপবাস’ শব্দটি উল্লেখ নেই।

এরপর ইয়োশিনোরির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং তাঁর গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য খোঁজা হয়। সেখানেও রোজা বা উপবাস সংক্রান্ত কোনো গবেষণা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর AFP-এর একটি প্রতিবেদনে টোকিও ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইয়োশিনোরি ওহশোমি রোজা বা উপবাস নিয়ে কোনো গবেষণা বা মন্তব্য করেননি।

অটোফ্যাজি কী?

অটোফ্যাজি হল মানবদেহের একটি প্রাকৃতিক কোষীয় প্রক্রিয়া। গ্রিক শব্দ ‘অটো’ (স্বয়ং) এবং ‘ফাজেইন’ (ভক্ষণ) থেকে এই শব্দটির উৎপত্তি। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ভেঙে ফেলে এবং সেগুলো পুনর্ব্যবহার করে। এটি কোষীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া ঠিকভাবে কাজ না করলে ক্যান্সার-সহ নানা রোগ হতে পারে।

তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে রোজা বা উপবাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান ভিত্তিক ম্যাগাজিন ‘নেচার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোফ্যাজি একটি জটিল কোষীয় প্রক্রিয়া, যা মানবদেহে ক্রমাগত ঘটে চলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইয়োশিনোরি ওহশোমি রোজা বা উপবাস নিয়ে কোনো গবেষণা করেননি। তিনি অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এই গবেষণার সঙ্গে রোজার কোনো সম্পর্ক নেই। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়।

রমজান মাসের পবিত্রতা ও রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এর সঙ্গে বিজ্ঞানের নামে মিথ্যা তথ্য যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়।