একটু নড়চড় হলেই সর্বনাশ! AI দিয়ে বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করার সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে সমর্থনকারী বিদেশি পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। বিদেশ দফতরের সিনিয়র কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির পর্যালোচনা করবে এবং ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করবে।
মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পরিকল্পনার ব্যাপারে বলেছেন, “যারা হামাস এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করে, তারা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি। সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থনকারী বিদেশি পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিরো সহনশীলতা নীতি থাকবে। আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করা হবে, এবং আইন ভঙ্গকারীদের নির্বাসন সহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এআই-চালিত ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিভোক’ প্রচেষ্টার মাধ্যমে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে হামাস ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতি সহানুভূতির প্রমাণ খুঁজে বের করবে। এ জন্য, পড়ুয়াদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি স্ক্যান করা হবে, এবং এর পাশাপাশি ‘অভ্যন্তরীণ ডাটাবেস’ পরীক্ষা করে দেখা হবে যে, কেউ যদি গ্রেফতার হয়েও থাকে, তবে তার দেশ ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশেষত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের কোনও প্রমাণ খুঁজে পেলে, সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের ভিসা বাতিল করবেন।
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন ঘোষণা করেছিলেন যে গাজার ওপর ইজরায়েলের হামলা নিয়ে যেসব বিদেশি পড়ুয়া বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশও জারি করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী হামাসের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, তাঁদের ভিসা দ্রুত বাতিল করা হবে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই নতুন পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী নীতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এক সড়কচিহ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।