“ব্ল্যাকমেইল করে আমাকে দিয়ে….?”-সোনা পাচার নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

দুবাই থেকে বিপুল পরিমাণে সোনা পাচারের অভিযোগে কন্নড় অভিনেত্রী রান্যা রাওকে গ্রেপ্তার করেছে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই)। গত রোববার রাতে বেঙ্গালুরুর কেম্পেগৌড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট থেকে নামার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রান্যার দাবি, তাকে ব্ল্যাকমেল করে এই সোনা পাচারে বাধ্য করা হয়েছিল। এ ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি অভিনেত্রীকে বিমানবন্দর থেকে নিরাপদে বের হতে সাহায্য করছিলেন বলে অভিযোগ।
গত ৪ মার্চ রান্যাকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ তার বাসভবনে অভিযান চালায়। লাভেল রোডের নন্দওয়ানি ম্যানসনে অভিযানে ২.৬৭ কোটি রুপি নগদ এবং ২.০৬ কোটি রুপি মূল্যের সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তল্লাশির সময় তার বাড়ি থেকে তিনটি বড় বাক্স উদ্ধার করা হয়। মোট বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মূল্য ১৭.২৯ কোটি রুপি। বিমানবন্দরে গ্রেপ্তারের সময় রান্যার জ্যাকেটের ভেতর থেকে ১৪.২ কেজি বিদেশি সোনা উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য ১২.৫৬ কোটি রুপি। গ্রেপ্তারের পর তাকে বিশদ তদন্তের জন্য নাগাভারায় ডিআরআই অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তে জানা গেছে, রান্যা এমিরেটসের ফ্লাইটে দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু ফিরছিলেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি পুলিশ কনস্টেবল বাসবরাজুর সাহায্যে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়াতে চেষ্টা করেন। কিন্তু ডিআরআই-এর কাছে আগে থেকেই তার কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য ছিল। ফলে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা সম্ভব হয়। পুলিশ সন্দেহ করছে, রান্যা তার স্বামী যতীন হুক্কেরির সঙ্গে প্রায়ই দুবাই যেতেন এবং এই ঘন ঘন সফরের উদ্দেশ্য ছিল সোনা পাচার। তবে তাদের দুবাইয়ে কোনো ব্যবসায়িক বা পারিবারিক সংযোগ ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রান্যা রাও কন্নড় ও তামিল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। তিনি কর্ণাটক রাজ্য পুলিশের একজন ডিজি-র্যাঙ্কের আইপিএস কর্মকর্তা কে. রামচন্দ্র রাও-এর সৎকন্যা। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়াতে প্রায়ই পুলিশের সাহায্য নিতেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার পুলিশ কর্মকর্তা সৎপিতার পরিচয় ব্যবহার করে এই কাজে সুবিধা পেয়েছেন।
ডিআরআই জানিয়েছে, রান্যার গত এক বছরে দুবাইয়ে ৩০ বার সফরের রেকর্ড রয়েছে। প্রতিটি সফরে তিনি বিপুল পরিমাণে সোনা নিয়ে আসতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন এই পাচার চক্রের পিছনে থাকা বৃহত্তর নেটওয়ার্ক এবং সোনার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এই ঘটনা বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সোনা উদ্ধারের ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রান্যাকে গ্রেপ্তারের পর একটি অর্থনৈতিক অপরাধ আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে তাকে ১৪ দিনের জন্য বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ কনস্টেবল বাসবরাজুকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে ডিআরআই।