এবার PoK টার্গেট ভারতের? জয়শঙ্করের মন্তব্যে নড়ে গেল পাকিস্তান, পাল্টা দাবিতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের লন্ডনে কাশ্মীর নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। জয়শঙ্করের দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) ভারতের অংশ এবং তা ফিরিয়ে আনা হবে, এই মন্তব্যে প্রতিবেশী দেশের অস্বস্তি স্পষ্ট। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে ভারতের উচিত জম্মু ও কাশ্মীরের “বিরাট অংশ” ছেড়ে দেওয়া, যা তাদের মতে গত ৭৭ বছর ধরে ভারত দখল করে রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলি খান তীব্র ভাষায় জয়শঙ্করের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে কাশ্মীর নিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে বিতর্কিত ও ভুল বিবৃতি দিয়েছেন। ভারত সেনাবাহিনীর জোরে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করলেও, বাস্তবতা অপরিবর্তিত থাকবে। সামরিক শক্তি দিয়ে কাশ্মীরের মানুষের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।”
জয়শঙ্কর কী বলেছিলেন?
লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে একটি অনুষ্ঠানে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করেছিলেন, ভারত কাশ্মীরকে অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে বলে পাকিস্তানের অভিযোগ। তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনার কথা বলেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করবেন?
এর জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই কাশ্মীর সমস্যার অনেকটাই সমাধান করেছি। প্রথম পদক্ষেপ ছিল জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণ। দ্বিতীয় ধাপে আমরা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়েছি। তৃতীয় ধাপে আমরা উচ্চ ভোটদান শতাংশ নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করেছি। এবার চতুর্থ ধাপ হল পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফিরিয়ে আনা। পাকিস্তান যে অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে, তা ফিরিয়ে দিলে কাশ্মীর সমস্যার পূর্ণ সমাধান হবে।”
তিনি আমেরিকার প্রসঙ্গে বলেন, “ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা বহুমুখী নীতির দিকে এগোচ্ছে, যা ভারতের স্বার্থের পক্ষে। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত।”
উত্তপ্ত বিতর্ক
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের মুখপাত্র শাফকাত আলি খানের পাল্টা দাবি, ভারতের উচিত কাশ্মীরের বড় অংশ ছেড়ে দেওয়া, এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার উঠে এসেছে। জয়শঙ্করের মন্তব্য এবং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এই ইস্যুতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও টানাপড়েন দেখা দিতে পারে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে গভীর ফারাক থাকায়, এই ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এখনও দূরবর্তী বলেই মনে হচ্ছে।