“ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ ব্যক্তি কর্মসূত্রে থাকেন ভিন রাজ্যে”- অভিযোগ শুনে হতবাক বিধায়ক

ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগে ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে আসা এই অভিযোগের মধ্যে এবার মুর্শিদাবাদে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জীবিত ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এই ঘটনায় তালিকা সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক নিয়ামত শেখ।
ভোটার তালিকায় গরমিলের বিষয়টি আগেই উত্থাপন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বকে এই বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের এলাকা পরিদর্শনে বের হন। এরপরই হরিহরপাড়া ব্লকের হুমাইপুর অঞ্চলের প্রদীপডাঙা এলাকায় এক পরিবার তাঁর কাছে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরে।
পরিবারটির দাবি, রফিকুল শেখ নামে তাঁদের এক সদস্য বর্তমানে জীবিত এবং হায়দরাবাদে কর্মরত। কিন্তু ভোটার তালিকায় তাঁকে ‘মৃত’ বলে দেখানো হয়েছে। বিধায়ক নিজে রফিকুলের সঙ্গে ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে কথা বলে তাঁর জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রফিকুলের মা জানান, “আমার ছেলে তিন মাস আগে কাজের জন্য বাইরে গিয়েছে। সে সেখানেই রয়েছে। কিন্তু ভোটার তালিকায় তাকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। কেন এমন হলো, আমরা জানি না।”
এই ঘটনায় হতবাক বিধায়ক নিয়ামত শেখ বলেন, “রফিকুল শেখের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আজ আমরা তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। এখানে তাঁর মা, পরিবারের সবাই রয়েছেন। কেন তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়। আমরা এই তালিকা সংশোধনের জন্য আবেদন জানাব।”
এই ঘটনা ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। রাজ্যজুড়ে ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ও তালিকায় গরমিলের অভিযোগে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।