ভুয়ো ভোটার ধরতে মেগা বৈঠক?- নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করবে TMC

গত বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় রাজ্যে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করতে ৩৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে ঠিক এক সপ্তাহ পর, সেই কমিটি তাদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে একটি বৈঠকে মিলিত হয়। এই বৈঠকটি তৃণমূল ভবনে সুব্রতি বক্সির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির অধিকাংশ সদস্য। তবে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না দলের শীর্ষ নেতারা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু, এবং ডেরেক ও ব্রায়েন।
বৈঠকের পর, তৃণমূল নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে তারা এখন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের তথ্য তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে, যা দলের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দাবির উপর ভিত্তি করে। বৈঠকে দলের নেতৃত্বের উদ্দেশ্য ছিল এই বিষয়টি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা এবং রাজ্যে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করার কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা।
পূর্বের তৃণমূল সভায় দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে, তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক এবং দলের নেতারা জেলায় জেলায় গিয়ে ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করতে ময়দানে নেমে পড়েন। বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে, যেখানে একাধিক ভোটার কার্ড একই এপিক নম্বরে তৈরি করা হয়েছে, কেউ আবার দুটি জায়গায় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন, অথবা মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়নি। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি একটি চক্রান্তের মাধ্যমে ভিনরাজ্যের ভোটারদের নামে একই এপিক নম্বরে ভোটার কার্ড তৈরি করে রাজ্যে ভোটের প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।
এদিনের বৈঠকে বীরভূম জেলা থেকে উপস্থিত ছিলেন কোর কমিটির সমস্ত সদস্য। সূত্র থেকে জানা গেছে, এ বৈঠক থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা এসেছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর কেষ্টর ওপর আস্থা রাখছেন না। বৈঠক শেষে তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে দলের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে।”
তৃণমূলের অভিযোগের পালটা হিসেবে বিজেপি নেতা শংকর ঘোষ দাবি করেন, “তৃণমূল নিজেই ভুয়ো ভোটার তৈরি করে ফেঁসে গিয়েছে। এখন, ভুয়ো ভোটারদের ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে উঠতে দেখে, নিজেদের ভোটারদের নাম কাটাতে মাঠে নেমেছে।”
এখন রাজ্য রাজনীতির দিকে চোখ রেখে, তৃণমূলের এই পদক্ষেপের প্রভাব আগামী নির্বাচনে কী হতে পারে, তা দেখতে সবার নজর থাকবে।