“চায়ের আসরেই মিটে যাক রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মামলা!”- কেন একথা বলল হাইকোর্ট?

গত বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর বেঞ্চে। শুনানি চলাকালীন দুই পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি একটি অভিনব পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “দুই পক্ষের দূরত্ব ঘুচে যেতে পারে চায়ের আসরে! রাজ্যের প্রধান দুই ব্যক্তির মধ্যে এমন লড়াই ভালো লাগছে না।”
শুনানির বিবরণ
এদিন আদালতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল দু’জনেই একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নিক।” এই মন্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমাদের কোনও আপত্তি নেই। একটা দিন ঠিক করে দিন আলোচনায় বসার জন্য।” তবে বিচারপতি এর উত্তরে প্রশ্ন তোলেন, “আপনি সময় চাইছেন। আপনি কি সিরিয়াস এই ব্যাপারটা নিয়ে? রাজ্যপালের কী দরকার মামলা করার?”
পালটা জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যপাল এমনিই রক্ষাকবচ পান। এই ধরনের রাজ্যপালের কথা ভাবতে পারলে সংবিধান রচয়িতারা এমন আইন বানাতেন না।” এরপর বিচারপতি ফের নির্দেশ দেন, “দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হল। ৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানি। এটা মিটিয়ে ফেলা হোক।”
মামলার পটভূমি
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল তৃণমূলের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রায়াত হোসেন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজ্যপাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ চারজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাজ্যপালের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তার সম্মানহানি করেছে। সপ্তাহ দেড়েক আগে রাজ্যপালের তরফে আদালতে হলফনামাও দাখিল করা হয়।
এদিকে, শুনানির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রী তার আইনজীবী পরিবর্তন করেন, যা মামলায় নতুন মোড় এনেছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, রাজ্যের দুই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির মধ্যে এই ধরনের বিরোধ রাজ্যের জন্য শুভ নয়। তিনি দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার পরামর্শ দিয়ে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তিনি এও বলেন, “এই বিষয়টি আদালতের বাইরে মিটে গেলে ভালো হয়।”
চলমান উত্তেজনা
রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ চলে আসছে। এই মামলা তারই একটি অংশ। আদালতের এই নির্দেশের পর দুই পক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। আগামী দিনে এই আলোচনা কোন পথে যায়, তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।