বলিউড গানে নাচ, মোমের ছ্যাঁকা! AIDSO নেত্রীদের ওপর ‘নৃশংস অত্যাচার’ পুলিশের, মিলল না রিপোর্ট

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করায় পুলিশের বিরুদ্ধে নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগ উঠল AIDSO-র চার নেত্রীর ওপর। অভিযোগ, কোতোয়ালি থানার ওসি তাঁদের বেল্ট, লাঠি, ঘুষি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। আরও চাঞ্চল্যকরভাবে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা করানো হলেও, মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।
সোমবার যাদবপুরকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর ধর্মঘট চলাকালীন মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানায় আটক হন চার AIDSO নেত্রী। অভিযোগ, লকআপের ভেতর তাঁদের উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।
🔹 মোমের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়
🔹 চুল ধরে শূন্যে তুলে পায়ের তলায় লাঠি মারা হয়
🔹 জোর করে বলিউডি গান চালিয়ে নাচতে বাধ্য করা হয়
এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মেডিক্যাল রিপোর্ট গায়েব, পুলিশের বিরুদ্ধে আড়াল করার অভিযোগ
নির্যাতিতরা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গেলেও তাঁদের কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে AIDSO-র রাজ্য সভাপতি মণিশঙ্কর পট্টনায়েক বলেন—
“মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার জন্য আমরা পশ্চিমবঙ্গের দুটি মেডিক্যাল কলেজে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে আমাদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। এমনকি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজেও পরীক্ষা করানোর পরও রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। এটা স্পষ্ট, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার বলেন—
“এরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। মহিলা থানাতেই তাঁদের রাখা হয়েছিল এবং রাতেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের চক্রান্ত মাত্র।”
তবে পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, মেডিক্যাল রিপোর্ট লুকিয়ে দেওয়ার মানেই নির্যাতনের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।
এই ঘটনার জেরে AIDSO-সহ বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলি রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাঁদের দাবি, দোষী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং লুকিয়ে রাখা মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হোক।
এই ঘটনায় পুলিশি নিরপেক্ষতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।