টানা পতনের পর অবশেষে স্বস্তির হাওয়া, এক ঝটকায় ঘুরে দাঁড়াল ভারতের শেয়ার বাজারর!

টানা ১০ দিনের রক্তক্ষরণের পর বুধবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের মাঝামাঝি এসে ঘুরে দাঁড়াল ভারতের শেয়ার বাজার। বাজার খুলতেই হু হু করে বাড়তে শুরু করে সেনসেক্স ও নিফটি, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

বুধবার বাজার খোলার পরই বিএসই সেনসেক্স ৫৬৪.৮০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩,৫৫৪.৭৩ অঙ্কে পৌঁছায়। একইভাবে, এনএসই নিফটি ১৭৬.৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ২২,২৫৯.৩০ অঙ্কে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার বাজার বন্ধের সময় সেনসেক্স ছিল ৭২,৯৮৯.৯৩ অঙ্কে এবং নিফটি ৫০ সূচক ৩৬.৬৫ পয়েন্ট পতনের পর ২২,০৮২.৬৫ অঙ্কে পৌঁছেছিল। টানা কয়েকদিন ধরে চলা ক্ষতির পর বিনিয়োগকারীদের জন্য বুধবারের বাজার একটি বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।

কোন কোম্পানিগুলির শেয়ার লাভের মুখ দেখল?
সেনসেক্সের উত্থানের ফলে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারে ভালো লাফ দেখা গেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

টাটা স্টিল
মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা
এইচসিএল টেকনোলজি
টেক মাহিন্দ্রা
আদানি পোর্টস
টাটা মোটরস
পাওয়ার গ্রিড
এনটিপিসি
ইনফোসিস
টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিস
ভারতী এয়ারটেল
ক্ষতির মুখে কোন কোম্পানিগুলি?
যদিও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে কিছু সংস্থা এখনো ক্ষতির মুখে রয়েছে:

বাজাজ ফিন্যান্স
বাজাজ ফিনসার্ভ
আল্ট্রাটেক সিমেন্ট
এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার শেয়ার বাজারও ইতিবাচক
শুধুমাত্র ভারতের শেয়ার বাজারেই নয়, এশিয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

টোকিও
সাংহাই
হংকং
সিওল
গত কয়েক মাস ধরে এই বাজারগুলিতেও পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তবে বুধবার এশিয়ার শেয়ার বাজারে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ ভারতের ওপর ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ চাপানোর ঘোষণা করেছেন। এর আগে তিনি চিন, কানাডা ও মেক্সিকোর ওপরও শুল্ক চাপিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত। অনেক বড় বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা শেয়ার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

আগামী দিনে বাজারের ভবিষ্যৎ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় শেয়ার বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে মার্কিন শুল্ক নীতির ওপর। যদিও আজকের বাজারের উত্থান স্বস্তি দিয়েছে, তবে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে হবে। মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্যে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।