‘এটাই সরে যাওয়ার সঠিক সময়’- সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পরই অবসরের ঘোষণা স্মিথের!

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট (ODI) থেকে অবসর ঘোষণা করলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ। তবে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। ক্রিকেট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক্সে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেই আসরে খেলার স্বপ্নই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
সেমিফাইনালের দারুণ পারফরম্যান্সের পরও কেন অবসর?
ভারতের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দারুণ ব্যাটিং এবং সীমিত পুঁজি নিয়েও অসাধারণ অধিনায়কত্ব করেন স্মিথ। তার নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া বড় বিপর্যয় এড়ায়। এরপরও কেন হঠাৎ একদিনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি?
স্মিথ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য এখনই দল পুনর্গঠনের সময়, আর সেই কারণেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘এটাই সরে যাওয়ার সঠিক সময়’— স্মিথ
অবসর ঘোষণা করে স্মিথ বলেন, “এটাই সরে যাওয়ার সঠিক সময় বলে মনে হয়েছে। এই সফরটা অসাধারণ ছিল এবং প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জেতা (২০১৫ ও ২০২৩) আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৭ সালের বিশ্বকাপের জন্য দল পুনর্গঠন করা দরকার। তাই মনে হয়েছে, এখনই সরে যাওয়ার সেরা সময়। তবে টেস্ট ক্রিকেট এখনও আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সামনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য আমি প্রস্তুত।”
একদিনের ক্রিকেটে স্মিথের নজরকাড়া পরিসংখ্যান
ম্যাচ: ১৭০
ইনিংস: ১৫৪
মোট রান: ৫,৮০০
গড়: ৪৩.২৮
সর্বোচ্চ স্কোর: ১৬৪
শতরান: ১২
অর্ধশতরান: ৩৫
স্ট্রাইক রেট: ৮৬.৯৬
অধিনায়ক হিসেবে স্মিথের কীর্তি
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৪টি একদিনের ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্মিথ, যার মধ্যে তার জয় শতাংশ ৫০। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড ও ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়, চ্যাপেল-হ্যাডলি ট্রফি জয় এবং ত্রিদেশীয় সিরিজে (অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ) তার নেতৃত্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্মিথের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার একদিনের ক্রিকেটে বড় শূন্যতা তৈরি হবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তবে তার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।