“রোহিতের নেতৃত্বে ভারত ফাইনালে,আজ আমি খুব খুশি” -বললেন কংগ্রেস নেত্রী শামা মহম্মদ

২৯ বলে ২৮ রান করে নবাগত কুপার কনোলির বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন রোহিত শর্মা। হয়তো সেই মুহূর্তে সুইপ শটের কোনও প্রয়োজন ছিল না। ধীরস্থিরভাবে খেলে তিনি নিজের অর্ধশতকের দিকে এগিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে রোহিত শর্মা তাঁর নিঃস্বার্থ খেলার ধরন দিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয় জয় করে চলেছেন। পাওয়ারপ্লের মধ্যে কনোলির সেই বলটি মেরে দলকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কারণ, দুবাইয়ের ধীরগতির পিচে তিনি জানতেন, শুরু থেকে ‘মোমেন্টাম’ না থাকলে রান তাড়া করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। রোহিতের খেলার ধরন কারও পছন্দ হোক বা না হোক, তাঁর অধিনায়কত্ব ও নিষ্ঠা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আইসিসি টুর্নামেন্টের মাঝে শামা মহম্মদ ও সৌগত রায়ের মতো ব্যক্তিরা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক তুললেও, রোহিত মাঠে জবাব দিয়ে ভারতকে আরও একটি ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছেন। গত দেড় বছরে এটি চতুর্থবার যখন রোহিতের নেতৃত্বে ভারত আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল।

এই সাফল্যের পর কংগ্রেস নেত্রী শামা মহম্মদ, যিনি আগে রোহিতের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, এবার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বার্তাসংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, “রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জিতেছে বলে আমি আজ খুব খুশি, খুবই উত্তেজিত। বিরাট কোহলিকে অভিনন্দন ৮৪ রানের জন্য এবং আইসিসি নকআউটে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রান করার জন্য। ফাইনালের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।” অথচ গত রবিবার নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর শামা রোহিতের সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “রোহিত শর্মা একজন খেলোয়াড় হিসেবে বেশ মোটা। তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে অধিনায়ক।” শুধু তাই নয়, তিনি রোহিতকে ‘মাঝারি মানের খেলোয়াড়’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছিলেন, তিনি কেবল ভাগ্যের জোরে অধিনায়ক হয়েছেন।

এদিকে, কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এই বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শামার মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত, দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। পবন জানান, দল শামাকে সেই পোস্টটি মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিল, এবং শামা তা মেনে পোস্টটি সরিয়েও ফেলেছেন। পরে শামা নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, “এটি একটি সাধারণ পোস্ট ছিল। গণতন্ত্রে নিজের মত প্রকাশ করা যায় না, এটা ভেবে আমি অবাক।” তবে তিনি ক্ষমা চাননি। এএনআইকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি ‘রোহিতের’ নামে জোর দিলেও বিতর্কের আগুন থামেনি।

রোহিতের খেলার ধরন বা সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হতে পারে, কিন্তু তাঁর ফলাফল কথা বলে। দুবাইয়ের কঠিন পিচে দলকে এগিয়ে রাখার চেষ্টা, নিজের থেকে দলকে প্রাধান্য দেওয়া—এই গুণই রোহিতকে আলাদা করে। শামা মহম্মদের মতো সমালোচকদের জবাবে তিনি কথা দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছেন। এখন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা ফাইনালের অপেক্ষায়, যেখানে রোহিতের নেতৃত্বে দল আরেকটি শিরোপার স্বপ্ন দেখছে।