দুঃসাহসিক ডাকাতি, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মালিকের কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা করল লুঠ

কলকাতায় আবারও ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা। এবার লক্ষ্য ছিল বড়বাজার এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ, ডাকাতরা ওই সংস্থায় ঢুকে মালিকের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। এতে মালিক গুরুতরভাবে আহত হন। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাত দল। তারপর আলমারিতে রাখা প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা লুট করে তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় মধ্য কলকাতার বড়বাজার থানায় ইতিমধ্যে ডাকাতির মামলা দায়ের করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড়বাজারের সিনাগগ স্ট্রিটে একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলায় এই ঘটনা ঘটেছে। এই এলাকায় একাধিক সংস্থার অফিস রয়েছে। সন্ধ্যার সময় এসব অফিসে লোকজন কম থাকে, বেশিরভাগই ফাঁকা পড়ে। ডাকাতরা আগে থেকে এই পরিস্থিতির রেকি করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে। পরিকল্পনা মাফিক তিন যুবক সঠিক সময়ে ওই অফিসের সামনে হাজির হয় এবং ডাকাতি শুরু করে। বড়বাজার থানা ও লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে জানতে পারেন, তিন ডাকাতের মধ্যে দুজনের মাথায় ছিল সাদা টুপি, আর একজনের মাথায় লাল টুপি। প্রথমে একজন অফিসে প্রবেশ করে, তারপর আরও দুজন ঢোকে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তিনজনই ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা, এই ডাকাতরা অফিস সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জোগাড় করেছিল। তাই এত নিখুঁতভাবে ডাকাতি সম্পন্ন করতে পেরেছে। ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তিনজন চাকরির আবেদনের ছুতোয় অফিসে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। তারপর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গালিগালাজ শুরু করে। আলমারিতে রাখা টাকার ব্যাগ লুটতে গেলে ব্যবসায়ী বাধা দেন। তখন তাঁকে আরও মারধর করা হয়। হাত-পা বেঁধে ফেলে ডাকাতরা ১৫ লক্ষ টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

তদন্তকারীদের মতে, এই ডাকাতির পিছনে বিহারের কোনও ডাকাত দল জড়িত থাকতে পারে। কারণ, এ ধরনের ডাকাতির ধরন সেখানে বেশি দেখা যায়। এ রাজ্যের ডাকাতির প্যাটার্ন কিছুটা আলাদা। ডাকাতরা হেঁটে বা বাসে করে হাওড়া স্টেশনের দিকে পালিয়েছে কিনা, তা জানতে পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডাকাতদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। এদিকে, মধ্য কলকাতার পোস্তা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর ব্যাগ থেকে ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। লিলুয়ার ওই ব্যবসায়ী পোস্তা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন।