এবারই শেষ! বদলে যাচ্ছে উচ্চমাধ্যমিকের পদ্ধতি, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ কী?

এবছরই শেষবারের মতো নিয়মিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হবে নতুন সেমেস্টার পদ্ধতি। সোমবার (৩ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবছর মাত্র ৫ লক্ষ ৯ হাজার পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক দিচ্ছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৯০ হাজার। ফলে এবার প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী কম অংশ নিচ্ছে।
উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এত কমার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের বাংলায় পড়ার আগ্রহ কমছে? নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে? কী বলছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং শিক্ষাবিদরা?
পরীক্ষার্থী সংখ্যা কমার পেছনে কী যুক্তি দিচ্ছে শিক্ষা সংসদ?
বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, এর মূল কারণ ২০২৩ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।
২০২৩ সালে মাত্র ৬ লক্ষ ৯০ হাজার পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪ লক্ষ কম। এর প্রভাব উচ্চমাধ্যমিকে পড়েছে।
২০২৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কমার কারণ কী?
শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, ২০২৩ সালে মাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী কমার একাধিক কারণ রয়েছে।
করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলছুট হয়ে যায়।
২০১৭ সালের এক সরকারি নির্দেশিকায় ক্লাস ফাইভে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সের কড়াকড়ি করা হয়, যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বয়সের অভাবে ভর্তি হতে পারেনি।
শিক্ষাবিদদের মতামত
প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা চন্দন মাইতি জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের স্কুলছুটের প্রবণতাও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন,
প্রতি বছর নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ না হলে সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
কন্যাশ্রী, সবুজ সাথীর মতো প্রকল্প চালু থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
রেজিস্ট্রেশন করেও কেন পরীক্ষায় বসছে না শিক্ষার্থীরা?
গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে বসছে না।
২০২০ সালে একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ৮ লক্ষ ১০ হাজার ৬৯৭ জন, কিন্তু ২০২২ সালে উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছিল ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ৭৩০ জন।
২০২১ সালে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ৭৬২ জন, কিন্তু ২০২৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক দেয় ৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১২ জন।
এবারও একাদশ শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫ হাজার কম পরীক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিকে বসছে।
কেন স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে? তদন্তের দাবি
চন্দন মাইতির মতে,
পলিটেকনিক এবং বৃত্তিমূলক কোর্সের কথা বলা হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েই স্কুল ছাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখার উপায় কী, তা খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত।
শিক্ষা ব্যবস্থায় এই প্রবণতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষাবিদরা।