“CBI-এর, স্ক্যানারে কলকাতা পুলিশের ১১ জন”- RG Kar -কাণ্ডে নেওয়া হলো বড় অ্যাকশন

আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। তদন্তের স্বার্থে কলকাতা পুলিশের ১১ জন পুলিশকর্মীকে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, টালা থানার এই ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর এবং কনস্টেবলরা। তাঁদের সোম ও মঙ্গলবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিবিআই-এর দাবি, ঘটনার দিন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে এবং টালা থানার ফাঁড়িতে যাঁরা কর্তব্যরত ছিলেন, তাঁদের সাক্ষ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তদন্তকারীরা তাঁদের কাছ থেকে সেই সময়ের পরিস্থিতি, পুলিশের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে সম্ভাব্য কথোপকথন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছে।
চার্জশিট জমার আগে গুরুত্বপূর্ণ তলব
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, এই সপ্তাহের মধ্যেই আরজি কর মামলায় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে এই ১১ পুলিশকর্মীর বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই জানতে চাইছে, ঘটনার সময় এই পুলিশকর্মীরা কোথায় ছিলেন, কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কীভাবে এই নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল, হাসপাতালে নিরাপত্তার কোনও ঘাটতি ছিল কি না এবং পুলিশের ভূমিকা কী ছিল। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্তে নতুন দিশা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তে নতুন মোড়
এই মামলায় ইতিমধ্যে সঞ্জয় রায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং আদালত তাঁর সাজা ঘোষণা করেছে। তবে সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও চার্জশিট জমা পড়েনি। এবার তদন্তের আওতায় এসেছেন টালা থানার ওসি-সহ এই ১১ পুলিশকর্মী। সূত্রের খবর, ঘটনার সময় তাঁরা সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই তথ্য তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত চর্চিত এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের তদন্তে বিলম্ব এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছিল। এবার ১১ পুলিশকর্মীকে তলবের মাধ্যমে সিবিআই তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয় এবং আসন্ন চার্জশিটে কী নতুন তথ্য উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এই ঘটনা রাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিবিআই-এর এই পদক্ষেপ কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।