“আমেরিকার সঙ্গে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরে প্রস্তুত ইউক্রেন”- জানিয়ে দিলেন জেলেনস্কি

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে নজিরবিহীন বাগবিতণ্ডার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেছে। তবে, জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরে প্রস্তুত এবং ‘গঠনমূলক সংলাপের’ জন্য উন্মুখ। সোমবার (৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি উত্তপ্ত বৈঠক হয়। খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে এই বৈঠক আয়োজিত হলেও, সংবাদমাধ্যমের সামনে তিন নেতার মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় চলে। ফলে চুক্তিটি স্বাক্ষর না হয়েই বাতিল হয়, এবং জেলেনস্কি মধ্যাহ্নভোজ না করেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন। এরপর তিনি সরাসরি ব্রিটেনে যান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

লন্ডনে একটি সম্মেলনে যোগ দিয়ে রোববার বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজ চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত। তবে তার আগে গঠনমূলক আলোচনা চাই। আমি শুধু চাই, ইউক্রেনের অবস্থান শোনা হোক।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের বন্ধু দেশগুলো মনে রাখুক, এই যুদ্ধে আগ্রাসী কারা, যুদ্ধ শুরু করেছিল কারা।”

জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবার তাকে আমন্ত্রণ জানায়, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসতে ইচ্ছুক। তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁর কথাও শোনা হতে হবে। তিনি বলেন, “আমি চাই আমাদের অংশীদাররা এটি মনে রাখুক। আমি আবার হোয়াইট হাউসে যেতে প্রস্তুত, কিন্তু আমার কথাও শুনতে হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় জেলেনস্কির বার্তা
সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, “ইউরোপ থেকে আমরা পূর্ণ সমর্থন পেয়েছি। সকলেই শান্তি চায়, এবং সেই কারণে আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। এটাই ইউরোপের অবস্থান।” তিনি যোগ করেন, “আমরা আমেরিকাকেও গুরুত্ব দিই। তাদের কাছ থেকে আমরা অনেক সাহায্য পেয়েছি, যার জন্য কৃতজ্ঞ। ইউক্রেনের প্রতিরোধ বন্ধু দেশগুলোর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। তারা এটি ইউক্রেন ও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য করছে। আমরা শান্তি চাই, বিরামহীন যুদ্ধ নয়। নিরাপত্তার নিশ্চয়তাই এই শান্তির চাবিকাঠি।”

হোয়াইট হাউসের ঘটনা
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও ভান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্প ও ভান্স জেলেনস্কিকে ‘অসম্মানজনক’ আচরণের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন। এরপর জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে বলা হয়। এই ঘটনার পর চুক্তি স্বাক্ষর বাতিল হয়ে যায়, যা ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়।

ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে বিরল পৃথিবীর খনিজ, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন এই সম্পদের অংশ নিতে চায়, যা তারা ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক ও আর্থিক সাহায্যের বিনিময়ে পাওয়ার দাবি হিসেবে দেখছে। তবে জেলেনস্কি বারবার জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

এই ঘটনার পর জেলেনস্কির ব্রিটেন সফর এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ। তবে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং খনিজ চুক্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।