“বুথে লিড দিলেই পুরুস্কার ১ লক্ষ টাকা”- TMC বিধায়কের বিতর্কিত ঘোষণা, উত্তাল রাজনীতি

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের এখনও এক বছর বাকি থাকলেও, ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভায় ভোটের উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে। রবিবার ক্যানিং রায়বাঘিনী হাইস্কুল মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীসভায় দলের নেতৃত্বরা কর্মীদের নির্বাচনী লড়াইয়ের বার্তা দেন। এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর লোকসভার সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শওকত মোল্লা এবং ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস। তবে, সভার মঞ্চ থেকে পরেশরাম দাসের একটি বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি দলের কর্মীদের ১ লক্ষ ভোটে জয়ের টার্গেট দিয়ে আর্থিক পুরস্কারের প্রলোভন দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে পরেশরাম দাস এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী প্রতিমা মণ্ডল এই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও পরেশরামই তৃণমূলের প্রার্থী হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এবার আমাদের লক্ষ্য ১ লক্ষ ভোটে জেতা। ক্যানিং পশ্চিমে ১১টি অঞ্চল রয়েছে। যে অঞ্চল সবচেয়ে বেশি লিড দেবে, তাদের ১ লক্ষ টাকা, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লিডের জন্য ৭৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা অঞ্চলকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেব। যে বুথ সবচেয়ে বেশি লিড দেবে, সেই বুথের সভাপতি ও সদস্যদের জন্য ৫০ হাজার টাকা থাকবে।”

এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতর শুরু হয়েছে। বিরোধীরা পরেশের এই ঘোষণাকে ‘ভোট কেনার চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করছে। বিজেপির দাবি, এই ধরনের বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির জন্য ‘ভয়ঙ্কর’। তারা বলছে, এর মাধ্যমে পরেশ বুথ লুঠ, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং যে কোনও উপায়ে ভোট নিজের পক্ষে করার বার্তা দিচ্ছেন। পাশাপাশি, এত টাকা তিনি কোথা থেকে পাচ্ছেন, সে প্রশ্নও তুলেছে বিরোধীরা।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক শওকত মোল্লা এই বিষয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “এটা পরেশের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দল এটাকে সমর্থন করে না।” তিনি দাবি করেন, দলীয়ভাবে এই ধরনের আর্থিক প্রলোভনের প্রস্তাবের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পরেশরাম দাস বলেন, “আমি বিধানসভা থেকে যে ভাতা পাই, তা এলাকার দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও দরিদ্র মানুষের সাহায্যে ব্যয় করি। চলতি বিধানসভার শেষ ভাতা থেকেই আমি এই পুরস্কার দেব। দলের কর্মীরা আমাকে এই জায়গায় এনেছেন, তাই তাঁদের উৎসাহিত করতে এই ঘোষণা করেছি। এটা দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য।”

তবে, এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিরোধীরা এটাকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ঘটনা ক্যানিং পশ্চিমের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।