ভবিষ্যতের যুদ্ধে ভারতের নতুন হাতিয়ার, দু’হাতে অস্ত্র চালাতে সক্ষম ৬ ফুট দীর্ঘ তার উচ্চতা

দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেনাবাহিনীর নাম নিলে প্রথমেই মনে পড়ে মার্কোস, ইউএস মেরিন, ইজরায়েলের ইয়াহোলাম বা রাশিয়ার স্পেটনাজের কথা। কিন্তু এদের সবাই মানুষ, যাদের সীমাবদ্ধতা আছে। ফিটনেস, মানসিক অবস্থা বা পরিস্থিতির চাপে তাদের পারফরম্যান্সে তারতম্য হয়। কিন্তু ভাবুন তো, এমন একটি সেনাবাহিনীর কথা, যারা কখনই ক্লান্ত হবে না, পরিবেশ বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সবসময় একই দক্ষতায় কাজ করবে। এমনকি তাদের গুলি চালিয়েও থামানো যাবে না। ভারতীয় সেনাবাহিনী ঠিক এমনই একটি রোবোটিক স্পেশাল ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে।

এই রোবোটিক সেনারা হবে বুলেটপ্রুফ, লম্বায় ৫.৫ থেকে ৬ ফুট, দু’হাতে অস্ত্র চালানোর ক্ষমতাসম্পন্ন। তারা দ্রুত চলাচল করতে পারবে, যেকোনো দিকে ঘুরতে পারবে এবং শত্রুর মুখোমুখি লড়াই থেকে শুরু করে টানা নজরদারিও চালাতে সক্ষম হবে। তবে, এই ধরনের রোবোটিক ফোর্স তৈরি করা সহজ কাজ নয়। বিজ্ঞানীদের মতে, সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০৪০ সালের মধ্যে এই রোবোটিক সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রস্তুত হবে।

বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মিউলের মতো রোবোটিক ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু রোবোটিক আর্মি তৈরি করা একেবারেই আলাদা চ্যালেঞ্জ। বিজ্ঞানীদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমন্বয়। রোবোটিক সেনাদের মধ্যে এই সমন্বয় বজায় রাখতে হবে, যাতে তারা নির্দেশ পেলেই একইভাবে কাজ করতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন ইন্টিগ্রেটেড লাইভ কমিউনিকেশন সিস্টেম।

এই প্রযুক্তি নিয়ে সতর্কতা জরুরি। যেমন, গত বছর আমেরিকার একটি গবেষণাগারে কম্পিউটারগুলো অদ্ভুত আচরণ শুরু করেছিল, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাই রোবোটিক ফোর্স ডিজাইন করতে গেলে বিজ্ঞানীদের প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকতে হবে।

চীন ও আমেরিকার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই রোবোটিক ফোর্স গঠনের কাজ শুরু করেছে। ভারতও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। বিজ্ঞানীদের আশা, আগামী দিনে যুদ্ধের ময়দানে ভারতীয় রোবোটিক সেনাবাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।