“স্ত্রী-বৌদিকে খুন করেছেন প্রসূন!”-ট্যাংরাকাণ্ডে পুলিশের কাছে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলকাতার ট্যাংরা ট্রিপল মার্ডার কেসে নতুন মোড় নিল। লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, প্রসূন দে অবশেষে তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রী রোমি দে এবং বৌদি সুদেষ্ণা দে-কে হত্যা করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রসূন দে-এর স্বীকারোক্তি তদন্তকে নতুন গতি দিয়েছে।
প্রসূন দে এবং তাঁর ভাই প্রণয় দে-কে নিয়ে গঠিত দে পরিবারের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্যাংরা থানা এলাকার অটল শূর রোডের বাড়ি থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন প্রসূনের স্ত্রী রোমি দে, বৌদি সুদেষ্ণা দে এবং এক কিশোরী। এর কিছুক্ষণ পরেই গড়ফা থানা এলাকায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনার খবর আসে। সেই গাড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় প্রসূন দে, প্রণয় দে এবং এক নাবালককে। পরে জানা যায়, এই দুর্ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরাই ট্যাংরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।
প্রসূন দে-এর স্বীকারোক্তি
লালবাজারের তদন্তকারীদের দাবি, প্রসূন দে প্রথমে বলেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী রোমি দে এবং বৌদি সুদেষ্ণা দে নিজেরাই নিজেদের হাত কেটেছিলেন। তবে, পরবর্তী জেরায় তিনি তাঁর বয়ান পরিবর্তন করেছেন। এখন তিনি স্বীকার করেছেন যে তিনি নিজেই স্ত্রী ও বৌদির হাত কেটেছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রসূন প্রথমে স্ত্রী রোমির হাতের শিরা ও গলায় কাটার চেষ্টা করেন। পরে বৌদি সুদেষ্ণার হাতের শিরাও কাটেন। এই সময় উভয়ের মুখে বালিশ চাপা দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনো আওয়াজ না বেরোতে পারে।
রোমির শরীরে প্রতিরোধের চিহ্নও পাওয়া গেছে। তাঁর ডান দিকের তলপেটে, দুই ঠোঁটে এবং ডান কাঁধে কালশিটে দাগ রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে তিনি হত্যার সময় প্রতিরোধ করেছিলেন।
ভাই প্রণয় দে-এর ভূমিকা
প্রসূনের ভাই প্রণয় দেও পুলিশের জেরায় স্বীকার করেছেন যে তিনি পায়েসে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলেন। তবে, প্রণয় দাবি করেছেন যে তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের বক্তব্যে বিস্তর অসংগতি রয়েছে, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
নাবালকের সাক্ষ্য
এই ঘটনায় দে পরিবারের নাবালক সদস্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শিশুটি শিশু সুরক্ষা কমিশনের সামনে জানিয়েছে যে কীভাবে তার কাকা প্রসূন দে পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করেছেন। শিশুটির বর্ণনা অনুযায়ী, প্রসূনই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা।
তদন্তের অগ্রগতি
কলকাতা পুলিশ তিনজনের ভিসেরা রিপোর্ট পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। এছাড়াও, মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে নাবালককে দাবা খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দেওয়া দাবা বোর্ডে খেলছে শিশুটি।
এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা তদন্ত চালাচ্ছে। প্রসূন ও প্রণয় দে-কে নিয়ে গঠিত দে পরিবারের এই ট্র্যাজেডি শহরবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের তদন্ত এখনও চলছে, এবং এই মামলার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর ট্যাংরা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস ঘটনায় হতবাক এবং পরিবারের শোকস্তব্ধ সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ আশা করছে, শীঘ্রই এই মামলার সব রহস্য উন্মোচিত হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।