শক্তিশালী ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পড়শি দেশ! বিহার থেকে দার্জিলিং উঠলো কেঁপে, টের পেলেন কি?

নেপালে আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল এলাকা। রাত ২টা ৩৬ মিনিটে নেপালের বাগমতি প্রদেশে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পের প্রভাব বিহার, সিকিম, দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেক বাড়িতে ফাটল ধরে যায় এবং আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.১ রিখটার স্কেলে। তবে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স (GFZ) এবং ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) ভূমিকম্পের মাত্রা যথাক্রমে ৫.৬ এবং ৫.৫ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
নেপালের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। গণেশ নেপালি নামে এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে যায়। আমরা দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি।”
ভূমিকম্পের ফলে নেপালের কিছু বাড়ি এবং পুলিশ পোস্টে ফাটল ধরে গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে।
ভারতের বিহার, সিকিম, দার্জিলিং এবং শিলিগুড়িতেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে। সেখানে অনেকেই আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন অনুভব করেন।
নেপালের ভোটে কোশি এলাকার পুরসভার চেয়ারম্যান পাসাং শেরপা জানান, ভূমিকম্পের ফলে দুগুনাগড়িতে ধস নামলেও আশেপাশে বাড়ি না থাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এই ভূমিকম্প আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে হিমালয়ান বেল্টে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কতটা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।