“ঘর ভাড়া নিয়ে থাকত মা- মেয়ে”-পিসি শাশুড়িকে টুকরো করা হলো কেন?-কি বলছে প্রতিবেশী

কুমোরটুলি ঘাটে একটি ট্রলি ব্যাগে কুকুরের দেহ বলে প্রথমে দাবি করা হলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সেই বয়ান। পুলিশি জেরায় ধৃত ফাল্গুনী ঘোষ ও আরতি ঘোষ জানিয়েছেন, ব্যাগে যিনি ছিলেন তিনি তাঁদের পিসি শাশুড়ি সুমিতা ঘোষ। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ফাল্গুনী ও আরতি প্রথমে প্রিন্সেপ ঘাটে যান। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে তাঁরা পৌঁছান কুমোরটুলি ঘাটে। মঙ্গলবার সকাল সাতটায় মুখে মাস্ক পরে, হাতে একটি ভারী ট্রলি ব্যাগ নিয়ে তাঁরা ঘাটে উপস্থিত হন। ব্যাগটি এতটাই ভারী ছিল যে, দু’জনে মিলে টানতে গিয়েও তাঁরা হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। ব্যাগে কী আছে জানতে চাইলে প্রথমে তাঁরা জানান, সেটি একটি কুকুরের দেহ।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই মা-মেয়ে জুটি গঙ্গায় ব্যাগ থেকে কিছু ফেলতে গেলে স্থানীয়রা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে পড়ে ভয়ঙ্কর সত্য—কাপড়ে মোড়া একটি পচে যাওয়া মৃতদেহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দু’জনকে আটক করে।
বয়ানে অসঙ্গতি, তীব্র উত্তেজনা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের বয়ান বারবার বদলাতে দেখা যায়। কখনও তাঁরা বলেন ব্যাগে কুকুরের দেহ, কখনও পিসি শাশুড়ির, আবার কখনও ননদের দেহ বলে দাবি করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমোরটুলি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ধৃতদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখান।
কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে শিয়ালদা-হাসনাবাদ লাইনের কাজিপাড়ার ট্রেনের টিকিট উদ্ধার হয়েছে, যা তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে।
মধ্যমগ্রামে কী ঘটেছিল?
মধ্যমগ্রামের স্থানীয়দের দাবি, ফাল্গুনী ও আরতি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে থাকতেন পিসি শাশুড়ি সুমিতা ঘোষ। প্রতিবেশীদের মতে, ফাল্গুনী ও আরতির সঙ্গে সুমিতার প্রায়ই বচসা লাগত। ঘটনার আগের দিনগুলিতে এই বচসা চরমে উঠেছিল বলেও অভিযোগ। কেউ কেউ বলছেন, তাঁদের ভাড়া থেকে উচ্ছেদ করতে বাড়িওয়ালার কাছে আবেদনও করেছিলেন প্রতিবেশীরা।
তদন্তে কী উঠে আসবে?
পুলিশ এখন এই ঘটনার পেছনের আসল কারণ খুঁজে বের করতে তৎপর। সুমিতা ঘোষের মৃত্যুর কারণ এবং তাঁর দেহ ব্যাগে পৌঁছানোর রহস্য উদঘাটনই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। এই ঘটনা শহরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।