গঙ্গায় দেহ ফেলতে গিয়ে ধরা পড়লো মা-মেয়ে, ব্যাগভর্তি টুকরো দেহ কার? যা বলল ধৃত মহিলা?

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক মা ও তাঁর মেয়ে। ট্রলি ব্যাগে করে এক মহিলার দেহ গঙ্গায় ফেলতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তাঁরা। পরে পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে। ধৃতদের নাম ফাল্গুনী ঘোষ ও আরতি ঘোষ। ট্রলি ব্যাগে পাওয়া দেহটি সুমিতা ঘোষের বলে জানা গেছে, তবে তিনি এই দুজনের কে হন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

সকাল সাতটায় ঘটনাটি শুরু। ধোপদুরস্ত পোশাকে এক যুবতী ও তাঁর মা ট্যাক্সি করে কুমোরটুলি ঘাটে আসেন। দুজনের মুখে মাস্ক, সঙ্গে একটি বড় ট্রলি ব্যাগ। ব্যাগটি এত ভারী ছিল যে দুজনে মিলে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। ব্যাগে কী আছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, “কুকুরের দেহ।” কিন্তু কুকুরের দেহ এত ভারী হবে কী করে? খটকা লাগে সকলের। তবু চুপচাপ নজর রাখতে থাকেন স্থানীয়রা। মা-মেয়ে ঘাটের দিকে এগিয়ে যান এবং ব্যাগ খুলে গঙ্গায় কিছু ফেলতে উদ্যত হন। ঠিক তখনই তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা।

ব্যাগ খুলে দেখা যায়, তাতে কাপড়ে জড়ানো একটি পচাগলা দেহ। প্রথমে দুজনে দাবি করেন, এটি কুকুরের দেহ। কিন্তু স্থানীয়দের চাপে তাঁরা বয়ান বদলাতে থাকেন—কখনও বলেন ‘পিসি-শাশুড়ি’, কখনও ‘ননদ’। এই অসংলগ্ন কথাবার্তায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনতা মারমুখী হয়ে ওঠে এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ পৌঁছনোর আগে স্থানীয়রা দুজনকে ঘিরে বারবার প্রশ্ন করতে থাকেন। পুলিশ এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে মা-মেয়ের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। এরপর তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। ট্রলি ব্যাগটিও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়। কিন্তু ভ্যান ঘিরে উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের দাবি, খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা করছিলেন এই দুই মহিলা।

কেন বলা হল কুকুরের দেহ?
স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে মা-মেয়ে ব্যাগে কুকুরের দেহ আছে বলে দাবি করলেও চাপের মুখে তাঁরা স্বীকার করেন যে এটি মানুষের দেহ। তবে কখনও ‘পিসি-শাশুড়ি’, কখনও ‘ননদ’—এমন পরস্পরবিরোধী বয়ানে বিভ্রান্তি বাড়ে। পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে এই দেহটি আসলে কার এবং খুনের পিছনে কী কারণ।

প্রিন্সেপ থেকে কুমোরটুলি: দেহ ফেলার পরিকল্পনা
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, এই দুই মহিলা প্রথমে প্রিন্সেপ ঘাটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গাড়ি করে কুমোরটুলি ঘাটে আসেন। তাঁদের কাছ থেকে শিয়ালদা-হাসনাবাদ রুটের কাজিপাড়া স্টেশনের ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। সম্ভবত সেখান থেকেই তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন। তবে তাঁদের বাড়ি কোথায় এবং কেন এই কাণ্ড, তা এখনও অজানা।

এই ঘটনায় কলকাতার মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দেহটির পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই মা-মেয়ের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এলাকায় উত্তেজনা এখনও থামেনি।