কোথায় বাজেট, কোথায় উন্নয়ন?- অন্য বিষয় নিয়েই বাকবিতণ্ডা চলল KMC-র অন্দরে

কলকাতা পুরনিগম থেকে প্রয়াগরাজের দূরত্ব ৭৯৪ কিলোমিটার। আর গঙ্গাসাগরের দূরত্ব মাত্র ১১৭ কিলোমিটার। কিন্তু এই দূরত্বের হিসেব যেন কলকাতা পুরনিগমের বাজেট আলোচনার অধিবেশনে উল্টো ছবি এঁকে দিল। নাগরিকদের জন্য উন্নয়নের আলোচনা পিছনে পড়ে গেল, আর গুরুত্ব পেল প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ এবং গঙ্গাসাগর মেলা। সোমবার ছিল পুরনিগমে বাজেট আলোচনার প্রথম দিন। কিন্তু আলোচনার মূল বিষয় যেন হারিয়ে গেল বিজেপি এবং তৃণমূল কাউন্সিলরদের তুমুল বাকযুদ্ধে।

বিজেপির পরিষদীয় দলনেত্রী তথা ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীনা দেবী পুরোহিত বক্তব্যে মহাকুম্ভ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি উত্তর প্রদেশ সরকারের রাস্তাঘাট ও নাগরিক পরিষেবার প্রশংসা করে তৃণমূল পরিচালিত পুর প্রশাসনকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “উত্তর প্রদেশ সরকার যেভাবে কুম্ভমেলার আয়োজন করছে, তাতে তারা আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে।” এই বক্তব্যের পরই শুরু হয় তর্কবিতর্ক।

পাল্টা জবাবে তৃণমূল কাউন্সিলররা মহাকুম্ভ মেলার বেহাল অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপন সাহা, ৯০ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতালি চট্টোপাধ্যায় এবং ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের অরূপ চক্রবর্তী উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হন। তারা মহাকুম্ভে ট্রেনের পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, জলের খারাপ মান এবং আয়োজনের ত্রুটির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা গঙ্গাসাগর মেলার সফল আয়োজনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করতে থাকেন। সন্দীপন সাহা বলেন, “গঙ্গাসাগর মেলায় রাজ্য প্রশাসন যে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করেছে, তা সারা দেশের কাছে উদাহরণ।”

এই বিতর্কের মাঝে অধিবেশন কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ওয়েলের কাছে নেমে এসে চিৎকার শুরু করেন। পাল্টা তৃণমূল কাউন্সিলররাও চিৎকারে সামিল হন। দু’পক্ষই একে অপরকে “চোর চোর দল” বলে কটাক্ষ করতে থাকে। এই হট্টগোলের মধ্যে চেয়ারপার্সন মালা রায়ের পক্ষে অধিবেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু এত হৈচৈয়ের মধ্যেও বাজেটের মূল উদ্দেশ্য—নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন—আলোচনায় আসেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাজেট আলোচনায় কুম্ভ বা গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন কী ছিল? চেয়ারপার্সন মালা রায় বলেন, “বাজেট ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে আলোচনা করা উচিত নয়। এই বক্তব্যগুলি বাতিল করা যায় কি না, তা নিয়ে আমরা ভেবে দেখব।”

এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, কলকাতার নাগরিকদের জন্য বাজেটে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ব্যস্ত। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আপাতত অধরাই রয়ে গেল।