OMG! ট্রলিভর্তি মুন্ডুহীন মহিলার টুকরো দেহ, গঙ্গায় ফেলতে এসে গ্রেফতার হলেন দুই মহিলা

মঙ্গলবার সকালে কলকাতার কুমোরটুলি ঘাটে ঘটে গেল এক হাড় হিম করা ঘটনা। একটি ট্রলি ব্যাগে করে এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ গঙ্গায় ভাসাতে এসেছিলেন দুই মহিলা। স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়ে তাঁদের কুকর্ম। পুলিশ ওই দুই মহিলাকে আটক করেছে এবং দেহটির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
জানা গেছে, সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে দুই মহিলা একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে কুমোরটুলি ঘাটে পৌঁছান। ব্যাগটি গঙ্গায় ভাসানোর চেষ্টা করার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তারা ব্যাগটি খুলে দেখেন, ভিতরে রয়েছে এক মহিলার টুকরো করা দেহ, যাতে ইতিমধ্যে পচন ধরেছে। এই ঘটনার পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই মহিলার নাম ফাল্গুনী ঘোষ ও আরতি ঘোষ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এর আগেও তাঁরা অন্যান্য ঘাটে দেহটি ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। মৃতদেহটি সম্ভবত সুমিতা ঘোষের বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। তবে এই খুনের পিছনে কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ওই দুই মহিলাকে ঘাটের কাছে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। তাঁদের আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। ট্রলি ব্যাগটি ফেলার চেষ্টা করার সময় স্থানীয়রা তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, ব্যাগে কী রয়েছে। প্রথমে কোনও উত্তর না দিলেও চাপের মুখে ব্যাগটি খোলা হয়। ভিতরে টুকরো করা দেহ দেখে সকলের চোখ কপালে ওঠে।
আটক দুই মহিলা প্রথমে দাবি করেন, ব্যাগে একটি কুকুরের দেহ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতেই তাঁরা দেহটি গঙ্গায় ফেলতে এসেছিলেন। পুলিশ তাঁদের আটক করে ভ্যানে তুলেছে এবং ট্রলি ব্যাগটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান এবং দাবি করেন, পুলিশ যেন পুরো ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেয়।
দুই মহিলার কাছ থেকে একটি ট্রেনের টিকিট উদ্ধার হয়েছে, যাতে শিয়ালদা-হাসনাবাদ লাইনের কাজীপাড়া স্টেশনের নাম উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, দূর থেকে কলকাতায় এসে তাঁরা এই কাজ করতে চেয়েছিলেন। জানা গেছে, একটি হলুদ ট্যাক্সিতে চেপে তাঁরা কুমোরটুলি ঘাটে পৌঁছেছিলেন। এর আগে সকালে তাঁরা প্রিন্সেপ ঘাটেও গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে চলে এসে কুমোরটুলিতে এই ঘটনা ঘটান।
পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি কার, কীভাবে খুন হয়েছে এবং ওই দুই মহিলার সঙ্গে মৃতার সম্পর্ক কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।