” মাত্র ৪১ রানেই আউট হতে পারতেন বিরাট”- আপিলই করেনি পাকিস্তান; জেনেনিন কী হয়েছিল?

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ পাকিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৬ উইকেটের এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হওয়া কোহলি অপরাজিত ১০০ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন। ১১১ বলে গড়া এই ইনিংসে তিনি ৭টি চার হাঁকান। এটি ছিল কোহলির ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৫১তম সেঞ্চুরি, যা তাকে ক্রিকেট ইতিহাসে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
সেঞ্চুরির পথে একটি ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত
ম্যাচের এক পর্যায়ে এমন একটি মুহূর্ত এসেছিল, যখন বিরাট কোহলি আউট হয়ে যেতে পারতেন। ঘটনাটি ঘটে ইনিংসের ২১তম ওভারে। হারিস রউফের পঞ্চম বলে কোহলি একটি সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। নন-স্ট্রাইকার এন্ডে ফিরে আসার সময় পাকিস্তানি ফিল্ডারের একটি থ্রো আসে। থ্রোটি সঠিক জায়গায় না এলেও কোহলি তার গ্লাভস দিয়ে বলটি থামিয়ে দেন। তখন তিনি ৪১ রানে ব্যাট করছিলেন। আরামে ক্রিজে ফিরলেও এই কাজটি আইসিসির নিয়মের পরিপন্থী ছিল। ‘মাঠে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগে তাকে আউট ঘোষণা করা যেতে পারত। তবে, পাকিস্তানি ফিল্ডাররা আপিল না করায় কোহলি বেঁচে যান।
কোহলির এই অ্যাকশনটি ইচ্ছাকৃতভাবে খেলার গতি ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে ছিল না বলে মনে হলেও, পাকিস্তানের হাতে আপিল করার সুযোগ ছিল। এই ঘটনা ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারত, কিন্তু কোহলি শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
সুনীল গাভাস্কারের প্রতিক্রিয়া
ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কার এই ঘটনায় খুশি ছিলেন না। তিনি মন্তব্য করেন, “যদি পাকিস্তানি ফিল্ডাররা আপিল করত, তাহলে ‘মাঠে বাধা দেওয়ার’ জন্য কোহলিকে আউট দেওয়া হতো। এমন পরিস্থিতিতে তারকা ব্যাটসম্যানদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।” গাভাস্কারের এই মন্তব্য কোহলির অ্যাকশনকে নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
— Nihari Korma (@NihariVsKorma) February 23, 2025
আইসিসির নিয়ম কী বলে?
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে বাধা দেওয়ার জন্য একজন ব্যাটসম্যানকে আউট দেওয়া যেতে পারে। নিয়ম ৩৭.১.১ অনুসারে, যদি কোনও ব্যাটসম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বা কাজের মাধ্যমে ফিল্ডিং পক্ষকে বাধা বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে তাকে আউট ঘোষণা করা যায়। নিয়ম ৩৭.১.২-এ বলা আছে, যদি কোনও ব্যাটসম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে এমন হাত দিয়ে বলে আঘাত করে, যে হাত ব্যাট ধরে না, তাহলেও তাকে আউট দেওয়া যায়। এই নিয়ম স্ট্রাইকার ও নন-স্ট্রাইকার উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। নিয়ম ৩৭.১.৩ অনুযায়ী, নো-বলের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর।
বিরাট কোহলির এই ইনিংস ভারতীয় সমর্থকদের জন্য আনন্দের উৎস হয়ে উঠলেও, মাঝে একটি সম্ভাব্য আউটের ঘটনা ম্যাচে উত্তেজনা যোগ করেছিল। পাকিস্তানের আপিল না করার সিদ্ধান্ত কোহলির জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে এবং শেষ পর্যন্ত তার অপরাজিত ১০০ রান ভারতকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। এই ঘটনা ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।