“সেই জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেনশন প্রত্যাহার”-বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

আরজি কর কাণ্ডের পর রাজ্যের ডাক্তারদের আন্দোলন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা আজ, সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এক বৈঠকে ঘুচিয়ে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সব ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক করে ডাক্তারদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তিনি। মাইনে বাড়ানোর প্রস্তাব থেকে শুরু করে প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে শিথিলতা এবং ডাক্তারদের জন্য একাধিক উপহার ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা: মাইনে বাড়ানো, প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে শিথিলতা
এদিনের বৈঠকে ডাক্তারদের মাইনে বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের জন্য নিয়ম শিথিল করার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, “সিনিয়র ডাক্তাররা সরকারি হাসপাতালে ৮ ঘণ্টা পরিষেবা দেবেন, তারপর প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করতে পারবেন। ৮ ঘণ্টা সরকারি পরিষেবা দিয়ে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।” এছাড়াও, ডাক্তারদের জন্য আরও কিছু সুবিধা যেমন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রসঙ্গ
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সিআইডি তদন্ত শুরু করেছিল। মামনি রুইদাস নামক এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের স্যালাইনের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকজন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ জানান, “মেদিনীপুরের ঘটনায় নেগলিজেন্স ছিল, কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হবে, কারণ তাদের ভবিষ্যত দেখতে হবে।” তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত তাদের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য উত্সাহিত করবে।
ডাক্তারদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “জুনিয়র ডাক্তাররা একদিন সিনিয়র হবে, তাই তাদের ভবিষ্যত চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।” এটি পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে, রাজ্য সরকার ডাক্তারদের প্রতি সহানুভূতি এবং শ্রদ্ধাশীল মনোভাব দেখাচ্ছে। পাশাপাশি, ডাক্তারদের শিথিল নিয়মের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে আরও ভালো কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি: একদম স্পষ্ট ও সদয়
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে, তিনি রাজ্য সরকারের এবং ডাক্তারদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে চাচ্ছেন। ডাক্তারদের মাইনে বাড়ানো, প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের শিথিলতা, এবং জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেনশন তুলে নেওয়া—এই সব সিদ্ধান্তকে ডাক্তাররা স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিনের বৈঠক রাজ্য সরকারের এবং ডাক্তারদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করলেন, একদিকে তিনি ডাক্তারদের কল্যাণে কাজ করছেন, আর অন্যদিকে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ডাক্তারদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল আনবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে।