“২০০০ USAID কর্মীকে বরখাস্ত, ১০০০ -এর বেশি মানুষকে ছুটি”-বড় পদক্ষেপ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (USAID)-এর ২০০০ কর্মীকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং আরও হাজার হাজার কর্মীকে ছুটিতে পাঠানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারকের রায়ের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

মার্কিন জেলা বিচারক কার্ল নিকোলস প্রশাসনের এই কর্মী ছাঁটাই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কর্মীদের করা আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেন, ফলে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করে। ইউএসএআইডির কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১১:৫৯ মিনিট থেকে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ইউএসএআইডি কর্মী প্রশাসনিক ছুটিতে থাকবেন। তবে মিশন-ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, মূল নেতৃত্ব এবং বিশেষভাবে মনোনীত কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাবেন।

USAID-এর প্রতি প্রশাসনের কঠোর নীতি
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইউএসএআইডির ওয়াশিংটন সদর দপ্তর বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার মার্কিন সাহায্য ও উন্নয়ন কর্মসূচি স্থগিত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার বাজেট পরামর্শক এলন মাস্ক মনে করেন যে বিদেশি সাহায্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডাকে উৎসাহিত করে।

বিদেশে কর্মরতদের উদ্বেগ
বিশেষ করে বিদেশে কর্মরত ইউএসএআইডির কর্মীরা তাদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে বিচারক কার্ল নিকোলস বলেন, প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে বিদেশে নিযুক্ত কর্মীদের জরুরি যোগাযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে, যার মধ্যে দ্বি-মুখী রেডিও এবং একটি প্যানিক বোতাম সুবিধাসহ একটি মোবাইল অ্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঠিকাদারদের ওপর প্রভাব
শত শত ইউএসএআইডি ঠিকাদারকেও হঠাৎ বরখাস্ত করা হয়েছে। অনেককে নামহীন বরখাস্তের চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা তাদের চাকরি হারানোর পাশাপাশি বেকারত্ব ভাতা পেতে সমস্যার সম্মুখীন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আদালতের হস্তক্ষেপ
ইউএসএআইডি বন্ধের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলায়, একজন বিচারক প্রশাসনকে বিদেশি সাহায্য বন্ধ করতে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। তবে আদালতের আদেশ সত্ত্বেও বিদেশি সাহায্য আটকে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচিত হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে বিশ্বব্যাপী সাহায্য কর্মসূচি সাময়িকভাবে পুনরায় চালু করতে হবে।

এই সিদ্ধান্ত মার্কিন ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষত উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।