“ঘুমের ওষুধে কাজ না-হওয়ায় তিন জনকে খুন”-ট্যাংরা কাণ্ডে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ট্যাংরায় দুই গৃহবধূ ও এক নাবালিকার মৃত্যু নিছক আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন— পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘটনার পর তদন্তে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত সাতদিন আগেই নেওয়া হয়েছিল। দুই ভাই প্রণয় ও প্রসূন, নিজেদের স্ত্রীরা এবং নাবালিকা প্রিয়ম্বদাকে নিয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেন। তবে দুই নাবালককে বাইরে রাখা হয়েছিল।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
পুলিশের দাবি, দুই ভাইয়ের ওপর কয়েক কোটি টাকার ঋণের বোঝা ছিল। সেটি শোধ করতে না পেরে তাঁরা পুরো পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ওষুধের দোকান ঘুরে ঘুমের ও প্রেসারের ওষুধ জোগাড় করতে থাকেন।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী,
📌 ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পরিবারের সবাইকে লস্যির (বা পায়েসের) সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়।
📌 প্রিয়ম্বদা ঘুমের মধ্যেই মারা যায়, কিন্তু দুই গৃহবধূ সুদেষ্ণা ও রোমির ওপর ওষুধ পুরোপুরি কাজ করেনি।
📌 ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে দুই ভাই ঠিক করেন, তাঁদের স্ত্রীদের হত্যা ছাড়া উপায় নেই।
খুনের নৃশংস পদ্ধতি
পুলিশ জানায়, প্রিয়ম্বদার সায়েন্সের বক্স থেকে কাগজ কাটার ছুরি নিয়ে দুই গৃহবধূর শিরা কাটা হয়, পরে গলাও কেটে দেওয়া হয়। প্রতীপের হাত কাটতে গেলে সে চিৎকার করে ওঠে। এরপর তাঁরা প্রতীপকে নিয়ে তিনতলায় যান এবং পুরো ঘটনা খুলে বলেন।
📌 রাতে গাড়ি দুর্ঘটনার মাধ্যমে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
📌 ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে তাঁরা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে উলুবেড়িয়ার দিকে যান।
📌 অভিষিক্তার কাছে বাইপাসে মেট্রো রেলের সাত নম্বর পিলারে গাড়ি ধাক্কা মারে।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা
🔹 পুলিশ জানতে পেরেছে, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার প্লাগ খুলে দেওয়া হয়েছিল।
🔹 ঘুমের ওষুধের স্ট্রিপের প্রমাণ পুড়িয়ে ফেলা হয়।
🔹 দুর্ঘটনার আগে প্রতীপকে গাড়ির পিছনের সিটে পাঠানো হয়, আর দুই ভাই সিট বেল্ট খুলে দেন।
প্রিয়ম্বদার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রিয়ম্বদার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে সে স্বাভাবিকভাবে মারা যায়নি। পুলিশের সন্দেহ, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা
এখনও পর্যন্ত তদন্তে দুই ভাই প্রণয় ও প্রসূনের বিরুদ্ধেই খুনের প্রমাণ জোরালো হচ্ছে। ফলে তাঁদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের জেরা করেছে, ট্যাংরার বাড়িতেও ফরেনসিক দল তদন্ত চালাচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু ঋণের চাপে আত্মহত্যার পরিকল্পনার চেয়েও বেশি কিছু হতে পারে— এমনই আশঙ্কা করছে পুলিশ।