‘নখ’ দিয়ে তিব্বতিদের দেখানো হতো ভয়! ডায়েরিতে ফাঁস চিনের নির্মম অত্যাচার

তিব্বতের উপর চিনের দখলদারি ও দমনপীড়নের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। তবে সেই দুঃসহ অতীতকে আরও গভীরভাবে তুলে ধরেছে তেনজিং ডিকিয়ের দাদুর ডায়েরি। এই ডায়েরি থেকে স্পষ্ট হয়, কীভাবে চিন শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে তিব্বত দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তিব্বতিদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার জন্য এক নৃশংস পরিকল্পনা চালিয়েছে।
১৯৫০ সালে চিনের লালফৌজ তিব্বত দখল করে। যদিও চিন দাবি করে, এটি শান্তিপূর্ণ সংযুক্তি, তবে বাস্তবে তিব্বতিদের দাবি, এটি ছিল সম্পূর্ণ সামরিক দখলদারি ও সাংস্কৃতিক নিধনযজ্ঞ।
১৯৫৯ সালে তিব্বতজুড়ে বিশাল আকারের বিক্ষোভ শুরু হয় চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। কমিউনিস্ট শাসকরা কড়া হাতে সেই আন্দোলন দমন করে। হাজার হাজার তিব্বতি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, বহু মানুষকে বন্দি করা হয়। দলাই লামা ভারতে আশ্রয় নেন, এবং তিব্বতের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান।
তেনজিং ডিকিয়ের দাদুও ছিলেন সেই বন্দিদের একজন। তাঁর লেখা ডায়েরিতে উঠে এসেছে চিনা বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র।
📌 কীভাবে বন্দিদের উপর অত্যাচার চালানো হতো?
🔹 মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন: চিনা বাহিনী তিব্বতি বন্দিদের উপর ভয়ংকর অত্যাচার চালাত। নখের টুকরো ছড়িয়ে দেওয়া হতো জেলের সেলে, কারণ তিব্বতি সংস্কারে এটি অশুভ সংকেত। বন্দিদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হতো।
🔹 সাংস্কৃতিক ধ্বংস: তিব্বতিদের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি ভুলিয়ে দিতে জোরপূর্বক চিনা শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হতো।
🔹 নিখোঁজ হয়ে যাওয়া: বহু বন্দির কোনও হদিস মেলেনি, অনেকে হয়তো নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন।
দলাই লামার বার্তা, কিন্তু কী বলছেন তেনজিং?
সম্প্রতি ধর্মশালায় দলাই লামা জানান, চিন তিব্বতিদের আবেগকে অবশেষে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে এবং তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তিনি আলোচনায় রাজি হলেও, তেনজিং ডিকিয়ে একেবারেই ভিন্ন মত পোষণ করেন।
📢 তেনজিংয়ের হুঁশিয়ারি:
🔹 চিনের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করা যাবে না, কারণ তারা তিব্বতিদের ধ্বংস করতেই চায়।
🔹 তাঁর দাদুর কথার সূত্র ধরে তিনি বলেন, “তিব্বতিদের ইতিহাস থেকেই মুছে ফেলতে চায় চিন। আমরা যদি সতর্ক না হই, তাহলে একদিন তিব্বতিরা বিলীন হয়ে যাবে।”
🔹 ভারতের প্রতিও বার্তা, “চিনকে বিশ্বাস করা ভুল হবে। তাওয়াং ও তিব্বতের ইতিহাস খুঁটিয়ে দেখলে এর যথেষ্ট প্রমাণ মিলবে।”
তিব্বত কি আর কখনও স্বাধীন হবে?
দলাই লামা দীর্ঘদিন আগেই তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ছেড়ে দিয়েছেন, এখন তিনি তিব্বতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বকীয়তা রক্ষার উপর জোর দিচ্ছেন। তবে তেনজিংয়ের মতে, “চিন কখনও তিব্বতকে তার নিজস্ব ঐতিহ্য নিয়ে বাঁচতে দেবে না।”
তিব্বতকে নিয়ে নতুন নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করেই চলেছে চিন। ইতিহাস বলে, মুখে যাই বলুক, চিন কখনও তিব্বতের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে মেনে নেবে না। তাই বিশ্ববাসীর সতর্ক থাকা জরুরি।