ইউক্রেনের মাটির তলায় সত্যি আছে কি ‘সোনা’?- খনিজ চুক্তি নিয়ে বিতর্ক ট্রাম্প-জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বাদ দিয়েই সৌদি আরবে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেলেনস্কির অনুপস্থিতি নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, তখনই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—জেলেনস্কি নাকি ট্রাম্পকে এক বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদ আমেরিকার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। শর্ত ছিল, এর বদলে আমেরিকাকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়নি।
এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টা, মাইক ওয়াল্টজ। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমেরিকার সমালোচনা করা ইউক্রেনের উচিত হয়নি। বরং সরাসরি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দেওয়া উচিত ছিল।” উল্লেখ্য, এই চুক্তির ফলে ইউক্রেনের বিপুল খনিজ সম্পদ ব্যবহারের অধিকার পেত আমেরিকা, এবং ইউক্রেনও পেত সামরিক সহায়তা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের মাটির নিচে রয়েছে অন্তত ১০৯ প্রকারের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যার মধ্যে রয়েছে টাইটেনিয়াম, লিথিয়াম ও ইউরেনিয়াম। দেশটিতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদও রয়েছে। তবে এই সম্পদের কতটা ব্যবহারযোগ্য, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
এই প্রসঙ্গে ইউক্রেনের এক সাংসদ, আরত্যোম মিত্রুক কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কির। তিনি দাবি করেন, “জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন। যেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন, সেখানে খনিজ উত্তোলন সম্ভব নয়। তাছাড়া, এই খনিজের প্রকৃত মূল্য কত, সেটাও নিশ্চিত নয়।”
মার্কিন বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, ইউক্রেনের খনিজ ভাণ্ডার নিয়ে অতিরিক্ত অনুমান করা হচ্ছে। অতীতে আফগানিস্তানেও লিথিয়ামের ভাণ্ডার নিয়ে উচ্চাশা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, “ইউক্রেনের মাটির নিচে প্রচুর খনিজ থাকার দাবির কোনও নিশ্চিত প্রমাণ নেই, এবং থাকলেও সেগুলোর কতটা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য, তা স্পষ্ট নয়।”
এই বিতর্কের মাঝেই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবে বৈঠক চলছে, যেখানে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। জেলেনস্কিকে বাদ দিয়ে এই আলোচনা চালানোয় কূটনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি ইউক্রেন ধীরে ধীরে আমেরিকার কূটনৈতিক সমর্থন হারাচ্ছে?