ডিভিসির জলে প্লাবিত আলুর জমি, চাষিদের পাশে দাঁড়াতে রাতারাতি বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে ডিভিসির ছাড়া জল—দুয়ে মিলে বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রামে নেমে এসেছে অকাল বন্যা। জলমগ্ন হয়েছে বিঘার পর বিঘা আলুর জমি। কোমরসমান জলের নিচে ডুবে থাকা আলু উদ্ধার করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন চাষিরা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে ক্ষতিগ্রস্ত আলু কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রাম দামোদর নদের তীরে অবস্থিত। এর আগেও আমন মৌসুমে ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছিল এই এলাকা। সেবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে ছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে ওঠার পর নতুন করে ঋণ নিয়ে রবি মরসুমে আলু চাষে নেমেছিলেন তাঁরা। এবারও দুর্যোগ পিছু ছাড়ল না। বৃহস্পতিবারের প্রবল বৃষ্টি ও বোরো চাষের জন্য ছাড়া ডিভিসির অতিরিক্ত জল কার্যত তলিয়ে দিল তাঁদের ফসল।
গতকাল আচমকাই জল ঢুকে পড়ে উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রাম সংলগ্ন প্রায় একশো বিঘা আলুর জমিতে। মুহূর্তের মধ্যে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও কোমর সমান জল জমে যায়। হঠাৎ এই বিপর্যয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই একরকম অসহায় হয়ে পড়েন চাষিরা। কোমরজলে নেমে একে একে আলু তুলে আনার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও, সামান্যই উদ্ধার করতে পেরেছেন তাঁরা। চোখের সামনে ফসল নষ্ট হতে দেখে অনেকেরই কান্না চলে আসে। তাঁদের আক্ষেপ—আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই আলু তোলা হতো, তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল!
অকাল বন্যার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কৃষি দফতর ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের ফসল বিমার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সুফল বাংলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত আলু সহায়ক মূল্যে কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন, যাতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন।