“বন্ধু মোদীকে ২১ লক্ষ মিলিয়ন ডলার”- ভারত কে দেওয়া USAID ফান্ড নিয়ে আবার সরব ট্রাম্প

“আমাদেরই যথেষ্ট মাথাব্যথা আছে। এর মধ্যে আবার ভারতের ভোট নিয়ে আমরা মাথা ঘামাব কেন?” – এই প্রশ্ন তুলে ফের বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তিন দিন ধরে তিনি USAID-এর মাধ্যমে “বন্ধু পিএম মোদী ও ভারতকে” দেওয়া ২১ মিলিয়ন ডলারের অনুদানের তীব্র সমালোচনা করে চলেছেন। তাঁর দাবি, জো বাইডেন প্রশাসনের আমলে এই অর্থ মার্কিন সহায়তা তহবিল থেকে ভারতের “ভোটার টার্নআউট” বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ই নাকি এই ফান্ডিং এসেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সরব হয়েছেন ট্রাম্প। শুধু আমেরিকাতেই নয়, ভারতেও এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।
শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ভোটার টার্নআউট বাড়ানোর জন্য। আমরা ২১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি ভারতের ভোটার টার্নআউটের জন্য। কিন্তু আমাদের কী হবে? আমিও তো আমাদের এখানে ভোটার টার্নআউট বাড়াতে চাই।” এই মন্তব্যের পরই ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। BJP অভিযোগ তুলেছে যে, বিদেশি অর্থের মাধ্যমে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
“কিকব্যাক স্কিম” অভিযোগে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
শুক্রবার ফের এই ফান্ডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে ট্রাম্প এটিকে “কিকব্যাক স্কিম” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “ভারতের ভোটার টার্নআউট নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথা কিসের? আমাদের তো নিজেদেরই হাজারো সমস্যা রয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্য আমেরিকার “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা প্রায়ই আন্তর্জাতিক সাহায্যের বিরোধিতায় তাঁর অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
ভারতে BJP-কংগ্রেস সংঘর্ষ
ভারতে এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ভারত একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। কোনও বিদেশি সংস্থার আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।” তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কাঠগড়ায় তুলে অভিযোগ করেন, “মোদীজিকে নিজের ক্ষমতায় হারাতে না পেরে বিদেশি শক্তির সাহায্য চাইছেন রাহুল গান্ধী। মোদীজির প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে গিয়ে ওঁরা এখন ভারতকেই ঘৃণা করতে শুরু করেছেন।”
কংগ্রেস এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এক কংগ্রেস নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটা বিজেপির আরেকটা চাল, যাতে প্রকৃত সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরানো যায়। মোদী সরকারের উচিত শাসনের দিকে মন দেওয়া, ষড়যন্ত্রের গল্প বানানো নয়।”
USAID ফান্ডিং নিয়ে ধোঁয়াশা
ট্রাম্পের ২১ মিলিয়ন ডলারের USAID অনুদান নিয়ে অভিযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি। ঐতিহাসিকভাবে USAID বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক উদ্যোগে সহায়তা করে আসছে, যার মধ্যে ভোটার শিক্ষা ও টার্নআউট বাড়ানোর প্রকল্পও রয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট অর্থ ভারতের নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। বাইডেন প্রশাসন এখনও ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাব দেয়নি।
দুই দেশে উত্তেজনা
এই বিতর্ক এখন আমেরিকা ও ভারত—দুই দেশের রাজনীতিতেই ঝড় তুলেছে। আমেরিকায় এটি বিদেশে করদাতাদের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে, আর ভারতে এটি BJP-কংগ্রেসের মধ্যে নতুন যুদ্ধের সূচনা করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য কি ভারত-মার্কিন সম্পর্কে ফাটল ধরাবে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক মঞ্চে একটি ক্ষণস্থায়ী নাটক—তা সময়ই বলবে।