“ধন লে গয়ি স্ত্রী”-চাহাল ও ধনশ্রীর ডিভোর্সের বিষয় নিয়ে ট্রোলড হচ্ছেন ধনশ্রী!

ভারতীয় ক্রিকেটার যুজবেন্দ্র চাহাল এবং জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী-কোরিওগ্রাফার ধনশ্রী ভার্মার চার বছরের দাম্পত্য জীবন অবশেষে আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। বান্দ্রার পারিবারিক আদালতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ৪৫ মিনিটের কাউন্সেলিং সেশনের পর বিচারক তাঁদের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করেন। দম্পতি “সামঞ্জস্যতার অভাব”কে বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ধনশ্রী ভার্মাকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র ট্রোলিং এবং ৬০ কোটি টাকার খোরপোষ নিয়ে বিতর্ক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আক্রমণ
বিচ্ছেদের ঘোষণার পর থেকেই নেটিজেনরা ধনশ্রীকে লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য করছেন। অনেকে খোরপোষ হিসেবে ৬০ কোটি টাকার গুজবকে কেন্দ্র করে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “৬০ কোটি টাকা কামানোর পর আপনি যে সুখ পান!” আরেকজন মজা করে বলেছেন, “ধন লে গয়ি স্ত্রী!” এমনকি একজন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “একজন প্রকৃত পুরুষকে ধ্বংস করার পর নারীরা এভাবেই আনন্দ উদযাপন করে!” এই ধরনের মন্তব্যে ধনশ্রী ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও বিব্রত বলে জানা গিয়েছে।

গুজবের বিরুদ্ধে পরিবারের প্রতিবাদ
এই ৬০ কোটি টাকার খোরপোষের গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ধনশ্রীর পরিবার। এক সাক্ষাৎকারে পরিবারের এক সদস্য বলেন, “এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এত পরিমাণ অর্থ কখনও চাওয়া হয়নি, দাবি করা হয়নি বা অফারও করা হয়নি। এই গুজব কেবল ধনশ্রী ও চাহালের পরিবারকে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়েছে।” ধনশ্রীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট অদিতি মোহোনিও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই মামলা বিচারাধীন। আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। তবে সংবাদমাধ্যমের উচিত তথ্য যাচাই করে রিপোর্ট করা।”

চাহাল ও ধনশ্রীর রহস্যময় পোস্ট
আদালতের শুনানির আগে উভয়েই ইনস্টাগ্রামে রহস্যময় বার্তা পোস্ট করেছিলেন। চাহাল লিখেছেন, “নীরবতা একটি গভীর সুর, যারা সমস্ত কোলাহলের ঊর্ধ্বে এটি শুনতে পারে তাদের জন্য।” অন্যদিকে ধনশ্রী লিখেছেন, “আমার নীরবতা দুর্বলতার চিহ্ন নয়; বরং এটি শক্তির প্রতীক।” এই পোস্টগুলি ফ্যানেদের মনে সন্দেহ আরও গভীর করেছিল। জানা গিয়েছে, গত ১৮ মাস ধরে তাঁরা আলাদা থাকছিলেন এবং ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে আনফলো করেছিলেন। এই ঘটনাগুলি তাঁদের সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, যা এখন আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

প্রেম থেকে বিচ্ছেদ
চাহাল ও ধনশ্রীর প্রেম কাহিনী শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময়। ধনশ্রীর নাচের ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে চাহাল তাঁর কাছে নাচ শিখতে যান। এরপর দ্রুতই তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের আগস্টে বাগদান এবং ডিসেম্বরে গুরুগ্রামে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে তাঁরা বিয়ে করেন। কিন্তু চার বছরের মধ্যেই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।

বিতর্কের মোড়
যদিও বিচ্ছেদ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, ৬০ কোটি টাকার খোরপোষ নিয়ে গুজব অব্যাহত রয়েছে। ধনশ্রীর পরিবার ও আইনজীবী এটিকে মিথ্যা বলে দাবি করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিতর্ক থামছে না। এখন দেখার বিষয়, এই গুজব কতদূর গড়ায় এবং চাহাল-ধনশ্রী কবে নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে জানান। এই ঘটনা ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র আলোড়ন ফেলেছে।