ট্যাংরার পর এবার বীরভূম, উদ্ধার একই পরিবারের ৩ জনের দেহ!- চাঞ্চল্য ঘটনায়

বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানা এলাকার ম্যানেজার পাড়ায় শুক্রবার সকালে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় একই পরিবারের তিন জনের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতরা হলেন লক্ষ্মী মার্ডি (২৫), তাঁর মেয়ে রুপালি মার্ডি (১০) এবং ছেলে অভিজিৎ মার্ডি (৫)। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে বাড়ির ভিতরে তিন জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন গ্রামবাসীরা। তিন জনের শরীরেই গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার খবর পেয়ে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
মৃত লক্ষ্মী মার্ডির স্বামী লালু মার্ডি পেশায় শ্রমিক এবং দুর্গাপুরে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লালু মার্ডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মহম্মদবাজার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছি। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিন জনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং অন্যান্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা শোকাহত ও আতঙ্কিত। এক প্রতিবেশী বলেন, “সকালে বাড়ির দরজা খোলা দেখে ভিতরে গিয়েছিলাম। তিন জনকে এভাবে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে আমরা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এমন ঘটনা এখানে কখনও ঘটেনি।”
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পারিবারিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে।
এই নৃশংস ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা জেলা।