“২ গৃহবধূ ও কিশোরীকে খুন? “- ট্যাংরায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ট্যাংরার মৃত্যুকাণ্ডে একের পর এক রহস্য দানা বাঁধছে। আত্মহত্যা না খুন—এই প্রশ্নের জল্পনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে সকাল ১১:২০ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা ময়নাতদন্তে দুই গৃহবধূ সুদেষ্ণা দে ও রোমি দে এবং কিশোরী প্রিয়ম্বদা দে-র মৃত্যুর কারণ হিসেবে খুনের দাবি উঠে এসেছে। এই রিপোর্টে আত্মহত্যার তত্ত্ব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে তদন্তের মোড় ঘুরেছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দিকে।

ময়নাতদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরী প্রিয়ম্বদা দে-র শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। তার ঠোঁট ও দুই পায়ে কালশিটে দাগ এবং পেটে হলুদ রঙের একটি তরল পদার্থ পাওয়া গেছে, যা ওষুধ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুমান, তাকে বিষ প্রয়োগ করে খুন করা হয়েছে। গৃহবধূ রোমি দে-র গলায় একটি গভীর কাটা দাগ (‘সিঙ্গেল কাট’) এবং দুই কব্জিতে কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বলে নিশ্চিত হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় তার শরীরে আঘাত করা হয়েছিল। একইভাবে, সুদেষ্ণা দে-র গলায়ও কাটা দাগ মিলেছে এবং তার মৃত্যুর কারণও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, তিনজনই খাবার খাওয়ার ৩ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে মারা গেছেন। অর্থাৎ, মৃত্যুর ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে তাঁরা খাবার গ্রহণ করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত খুন।

ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ, দুই ভাইয়ের গতিবিধি
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ট্যাংরার ওই বাড়ির বাথরুমের বেসিনে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। পুলিশের অনুমান, খুনের পর দুই ভাই প্রসূণ দে ও প্রণয় দে এবং এক কিশোর ছাদে গিয়ে জামাকাপড় বদলেছিলেন। এরপর রাতের অন্ধকারে তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, খুনের পরদিন দুই ভাই তাঁদের গাড়িচালককে আসতে বারণ করেছিলেন। এই ঘটনা তদন্তে নতুন মোড় এনেছে।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ঘটনা?
বুধবার সকাল থেকে ট্যাংরার একই পরিবারের তিনজনের দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুই গৃহবধূ ও এক কিশোরীর হাতের শিরা কাটা অবস্থায় দেহ পাওয়া যায়। একই দিন অভিষিক্তার কাছে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হন, যাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ জানায়, ওই তিনজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। আহতদের বয়ানে জানা যায়, ট্যাংরার বাড়িতে তিনজনের দেহ পড়ে রয়েছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি দেহ উদ্ধার করে।

আত্মহত্যা না খুন?
আহত তিনজন দাবি করেছেন, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে খুনের দিকে ইঙ্গিত পাওয়ায় তাঁদের বয়ান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। আহতদের সঙ্গে কথা বলে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

তদন্তে কী মোড়?
ট্যাংরার এই মৃত্যুকাণ্ডে রহস্যের জট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে খুনের প্রমাণ মেলায় পুলিশ এখন ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তৎপর। দুই ভাই প্রসূণ ও প্রণয়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত গভীর হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।