অশ্লীল কন্টেন্ট-জোকস, OTT প্ল্যাটফর্মগুলিকে Ethics Code নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কেন্দ্র

দেশজুড়ে ইউটিউব ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অশ্লীল কন্টেন্ট নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (I&B Ministry) ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মগুলিকে নৈতিকতা সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বিতর্কের সূচনা
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইউটিউবে সম্প্রচারিত শো ‘ইন্ডিয়াস গট ট্যালেন্ট’-এ। কমেডিয়ান সামে রায়নারের প্রশ্নের উত্তরে ইউটিউবার রণবীর এলাহাবাদিয়া একটি অশ্লীল কৌতুক করেন। তার মন্তব্য ছিল, “আপনি কি বরং আপনার বাবা-মাকে সারা জীবনের জন্য প্রতিদিন যৌন মিলন করতে দেখতে চান, নাকি একবার যোগ দিয়ে তা বন্ধ করতে চান?” এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। যদিও পরবর্তীতে শোটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়, তবুও বিতর্ক থামেনি। অনলাইনে এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারের কঠোর পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক অনলাইন কন্টেন্ট প্রকাশকদের নোটিশ জারি করেছে। মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের তথ্য প্রযুক্তি (মধ্যস্থ নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল মিডিয়া নীতিশাস্ত্র) বিধিমালা, ২০২১ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অশ্লীল, অশোভন এবং অনৈতিক বিষয়বস্তু প্রচারে কঠোরতা আরোপ করা হবে। এছাড়া, স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে রণবীর এলাহাবাদিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি এফআইআর একত্রিত করার আবেদন শুনানিতে বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে নিয়ন্ত্রণের অভাবের অপব্যবহার বন্ধ করতে কিছু করা প্রয়োজন।” আদালতের এই মন্তব্যের পরই সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়।

অসম, মুম্বাই এবং জয়পুরে এই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। মুম্বই ও গুয়াহাটি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে “যোগাযোগের বাইরে”।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারী অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী অভিব্যক্তির স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
সরকারের এই নির্দেশনার পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের কন্টেন্ট নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। এছাড়া, স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এই পদক্ষেপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্বশীলতা এবং নৈতিকতার প্রশ্নে একটি বড় বিতর্কের সূচনা করেছে। আগামী দিনে এই নিয়ে আরও আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।