“মহাকুম্ভে সঙ্গমের জলে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া? ‘বিরোধীদের মিথ্যে প্রচার,’ দাবি যোগী আদিত্যনাথের

মহাকুম্ভের পুণ্যস্নানে মেতে উঠেছে গোটা দেশ। কোটি কোটি মানুষ ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দিচ্ছেন পবিত্র জলে, অনেকে সেই জল পানও করছেন। কিন্তু এই আবহেই মহাকুম্ভের জলে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ঘুরে বেড়ানোর দাবি উঠেছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে আসে। তবে এই দাবিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, সঙ্গমের জল সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পানযোগ্য।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, সঙ্গমের জলে মল কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরই শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। তবে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “সঙ্গমের জল পান করার জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য। বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে মহাকুম্ভের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।”
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে যোগী আদিত্যনাথ জানান, এ পর্যন্ত ৫৬ কোটি ২৫ লাখ মানুষ ত্রিবেণী সঙ্গমে পুণ্যস্নান করেছেন। তিনি বলেন, “মহাকুম্ভে মোক্ষপ্রাপ্তির আশায় বহু সম্মানিত ও বিখ্যাত ব্যক্তিরা স্নান করেছেন। যখন আমরা সনাতন ধর্ম, মা গঙ্গা বা মহাকুম্ভের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলি, তখন আসলে ৫৬ কোটি মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করা হয়।”
যোগী আরও বলেন, “সমাজবাদী পার্টি প্রশ্ন তুলছে, ‘কেন মহাকুম্ভের পিছনে এত টাকা খরচ করা হচ্ছে?’ সপার নেতা লালুপ্রসাদ যাদব বলছেন, কুম্ভ ‘ফালতু’। সপার আরেক বন্ধু (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বলছেন, মহাকুম্ভ ‘মৃত্যু কুম্ভে’ পরিণত হয়েছে। যদি সনাতন ধর্মকে উদযাপন করা অপরাধ হয়, তবে হ্যাঁ, আমার সরকার অপরাধ করেছে।”
জলের গুণমান নিয়ে উঠা প্রশ্নের জবাবে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, সঙ্গম ও তার আশেপাশের সব ড্রেন এবং পাইপলাইন সিল করা হয়েছে। বিশুদ্ধকরণের পরই জল ছাড়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, সঙ্গমের কাছে জৈব রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (BOD) ৩-এর নিচে এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ৮-৯-এর মধ্যে রয়েছে। এটা প্রমাণ করে, সঙ্গমের জল শুধু স্নানের জন্য নয়, ‘আচমন’-এর জন্যও উপযুক্ত।
তিনি আরও বলেন, মল কলিফর্মের মাত্রা বাড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন পয়ঃনিষ্কাশন লিকেজ বা পশুর বর্জ্য। তবে প্রয়াগরাজে মল কলিফর্মের পরিমাণ প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২,৫০০ MPN-এর নিচে, যা আদর্শ মান অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য। এনজিটিও (NGT) জানিয়েছে, মল বর্জ্যের পরিমাণ প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২,০০০ MPN-এর নিচে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যে স্পষ্ট, মহাকুম্ভের জলের গুণমান নিয়ে কোনো আপোষ নেই। তবে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট নিয়ে বিতর্ক চলমান। কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের দ্বন্দ্বে মহাকুম্ভের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জলের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
মহাকুম্ভের এই পুণ্যস্নান যেন শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসই নয়, বরং পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিক থেকেও একটি মডেল হয়ে উঠুক, এই প্রত্যাশাই করছে গোটা দেশ।
New chat