পাপ কি আদৌ ধুচ্ছে? কুম্ভে গোপনে রেকর্ড হচ্ছে মহিলাদের স্নানের ভিডিয়ো! বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার টাকায়

প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভ। পুণ্যস্নানের মাধ্যমে পাপ ধোয়ার আশায় লাখো মানুষ এখানে সমবেত হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—পাপ কি সত্যিই ধোয়া যাচ্ছে? বরং এই পবিত্র স্থানেও কিছু মানুষ আরও পাপের পথে হাঁটছেন। মহাকুম্ভে স্নান করতে আসা মহিলাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো গোপনে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হচ্ছে। এই ঘটনায় উত্তর প্রদেশ পুলিশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং দুটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।

সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের নজরে আসে যে, কিছু নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে মহিলাদের স্নান ও পোশাক বদলের দৃশ্য ধরা পড়ছে। তদন্তে দেখা যায়, এর মধ্যে কুম্ভস্নানের একাধিক ছবি ও ভিডিয়োও রয়েছে। এই সম্মানহানিকর কাণ্ড দেখে পুলিশ তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপে নামে। উত্তর প্রদেশ পুলিশের শীর্ষকর্তা প্রশান্ত কুমারের নির্দেশে কোতওয়ালি কুম্ভ মেলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ বেশ কয়েকটি ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইল শনাক্ত করেছে, যেখানে মহিলাদের গোপন ভিডিয়ো আপলোড করা হয়েছে। এই প্রোফাইলগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কাজ চলছে।

এই ঘটনার তদন্তে আরও গভীরতা আনতে পুলিশ ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের মূল সংস্থা মেটার কাছে সাহায্য চেয়েছে। কোন অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এই ধরনের ছবি ও ভিডিয়ো আপলোড করা হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে মেটার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এদিকে, টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমেও মহাকুম্ভে মহিলাদের স্নানের ভিডিয়ো বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কিছু চ্যানেলে ৩-৪ হাজার টাকার বিনিময়ে এই ভিডিয়োগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে অনেক ভিডিয়ো পুরনো বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা মহাকুম্ভের পবিত্রতাকে কলঙ্কিত করেছে বলে অনেকে মনে করছেন। পুণ্যস্নানের মতো একটি ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে এমন নোংরা কাণ্ডে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনা নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। মহাকুম্ভের মতো বিশাল জমায়েতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।