“ভারতে অন্য কারও জয় দেখতে চেয়েছিলেন”-বাইডেনকে কেন এরকম প্রশ্ন ট্রাম্পের?

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২ কোটি টাকা) মার্কিন তহবিল বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতি আরও একবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ফ্লোরিডার মায়ামিতে FII Priority Summit-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “ভারতে ভোটের হার বাড়ানোর জন্য আমাদের কেন ২১ মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে? আমার মনে হয় তারা (বাইডেন প্রশাসন) ভারতে অন্য কাউকে জিততে দেখতে চেয়েছিল। আমাদের এই বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটা একটা বড় অগ্রগতি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (DOGE)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি DOGE ঘোষণা করেছিল যে, মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে ভারতে ভোটদান বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ ২১ মিলিয়ন ডলার তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, “আমরা কেন ভারতকে ২১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছি? তাদের অনেক টাকা আছে। তারা বিশ্বের সর্বোচ্চ কর আরোপকারী দেশগুলির মধ্যে একটি। তাদের শুল্ক এত বেশি যে আমরা সেখানে প্রবেশ করতে পারি না। ভারত এবং তার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু ভোটারদের জন্য ২১ মিলিয়ন ডলার কেন?”

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে তিনি এই তহবিলকে ভারতের নির্বাচনে বাইডেন প্রশাসনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তিনি মায়ামির সম্মেলনে বলেন, “এটা এমন যে তারা অন্য কাউকে নির্বাচিত করতে চেয়েছিল। আমাদের এটা ভারত সরকারের নজরে আনতে হবে।” এর আগে তিনি ভারতের উচ্চ শুল্ক নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, ভারতের মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের জন্য এ ধরনের আর্থিক সহায়তা অপ্রয়োজনীয়।

প্রসঙ্গত, DOGE-এর এই সিদ্ধান্তের পর ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালবিয়া এই তহবিলকে ‘ভারতের নির্বাচনে বহিরাগত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “এ থেকে কে লাভবান হয়? নিশ্চিতভাবে ক্ষমতাসীন দল নয়!”

ট্রাম্পের মন্তব্য এবং DOGE-এর তহবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন, তিনি একই সঙ্গে ভারতের শুল্ক নীতি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার উল্লেখ করে এই তহবিলের যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রভাব এবং মার্কিন সহায়তার ভূমিকা নিয়ে আরও আলোচনার সূত্রপাত করেছে।