“এটা অব্যবস্থার ছবি নয় তো কী?”-‘মৃত্যুকুম্ভ’ মন্তব্যে শংকরাচার্যকে পাশে পেলেন মমতা!

মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যুকুম্ভ’ বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপি নেতারা একযোগে তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ করেছেন, এমনকি সন্ন্যাসীরাও মমতার মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তবে, এই বিতর্কের মধ্যেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন করলেন শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী।
শংকরাচার্যের অভিযোগ
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শংকরাচার্য বলেন, “মহাকুম্ভে অব্যবস্থার চরম উদাহরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ৩০০ মিটার এলাকা জুড়ে লম্বা যানজট। মানুষকে ২৫-৩০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জলের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গঙ্গার জল স্নানের উপযুক্ত নয়। তাহলে কেন মানুষকে সেই দূষিত জলে স্নান করানো হচ্ছে? কেন আগেভাগে জল পরিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?”
শংকরাচার্য আরও প্রশ্ন তোলেন, “১২ বছর অন্তর মহাকুম্ভ হয়, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করার সুযোগ থাকার পরও কেন এমন বিশৃঙ্খলা? মানুষকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসন ব্যর্থ।” তিনি অভিযোগ করেন, মহাকুম্ভের মহাযোগ নিয়ে যে বিপুল প্রচার করা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।
যোগী সরকারের সমালোচনা
প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন শংকরাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “যেভাবে পদপিষ্টের ঘটনা বা আগুন লাগার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তা নিন্দনীয়। এটা একটা ঘৃণ্য অপরাধ।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে মহাকুম্ভে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কখনও পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু, কখনও অগ্নিকাণ্ড, আবার কখনও ট্রেনে উঠতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে প্রাণহানি। এসব ঘটনার পরও উত্তরপ্রদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
#WATCH | Bemetara, Chhattisgarh: On West Bengal CM Mamata Banerjee’s ‘Mrityu Kumbh’ remark, Jagadguru Shankaracharya Swami Avimukteshwaranand Saraswati Maharaj says, “… There was a traffic jam of 300 kilometres, if this is not mismanagement then what is it? People had to walk… pic.twitter.com/pxDXWI5og7
— ANI (@ANI) February 19, 2025
মমতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মহাকুম্ভের কথা বলে লাভ নেই। ওটা এখন মৃত্যুকুম্ভ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা-নেত্রীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “এটি কোটি কোটি হিন্দু ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত।”
রাজনৈতিক প্রভাব
শংকরাচার্যের সমর্থন পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে। বিজেপিকে বিঁধে শাসকদল বলছে, “মহাকুম্ভের অচলাবস্থা ও প্রাণহানির দায় সরকারকেই নিতে হবে।”
এই বিতর্ককে ঘিরে উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মহাকুম্ভের ঘটনাগুলি জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলে দেবে।