“বজরংবলী ও নামাবলি গায়ে নিয়ে ডুব”- নিউ ইয়র্ক থেকে এসে কুম্ভস্নান করলেন হৃদরোগী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ও নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা অমিত গুহ তাঁর অবিশ্বাস্য সংকল্প ও ধর্মীয় আস্থার জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ৩৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই বাঙালি মাত্র এক দিনের জন্য ভারতে ফিরে এলেন শুধুমাত্র মহাকুম্ভে স্নান করার জন্য। প্রায় ১২,৪০০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে, তিনি প্রয়াগের সঙ্গমে মঙ্গল-ঊষাতে ডুব দিলেন এবং তারপর আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে গেলেন।

অমিতের হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় ডাক্তার তাঁকে দীর্ঘ বিমানযাত্রা করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তির কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বড় হয়ে ওঠেনি। নিউ ইয়র্ক থেকে দিল্লি, তারপর বারাণসী হয়ে পাঁচ ঘণ্টার যাত্রায় তিনি পৌঁছে যান প্রয়াগে। স্নান শেষে দ্রুত নিউ ইয়র্কে ফিরে যাওয়ার জন্যও তিনি পূর্ব পরিকল্পনা করেই রেখেছিলেন।

তাঁর এই সফরের পেছনে ছিল আত্মিক বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের ইচ্ছেপূরণের আকাঙ্ক্ষা। স্ত্রী স্মিতা ও দুই কন্যা অমৃতা ও আনন্দিতা তাঁকে এই বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ঈশ্বরের অনুমতি পেয়েছেন বলে মনে করতেন। বন্ধু বিজয় ভকত, সঞ্জয় দত্ত ও বিশ্বজিৎ করের সহযোগিতায় তাঁর স্বপ্নপূরণ সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রয়াগে থাকার সময় এনটিপিসি-র তাঁবুতে অতিথি হিসেবে আতিথ্য গ্রহণ করেন তিনি।

অমিতের ঝটিকা সফর ছিল পরিকল্পিত ও পরিমিত। তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ, পাসপোর্ট, ভিসা ও ধর্মীয় উপকরণ। প্রয়াগ থেকে কিছু গঙ্গার মাটি ও কুম্ভের জল তিনি নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁর উপাসনা বেদিতে থাকবে।

কলকাতার যাদবপুর অঞ্চলের বাসিন্দা অমিত একসময় ফুটবলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার সময় সর্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল মিটে খেলে কিংবদন্তি মজিদ বিশকরকে কলকাতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে পিৎজা সেন্টার চালান এবং সমাজসেবায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। কোভিড মহামারীর সময় তিনি ১০০ দিন হাসপাতাল ও দমকল কর্মীদের জন্য পিৎজা বিতরণ করেছিলেন এবং বর্তমানে মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এখনও অটুট। প্রতি বছর শীতে তিনি দেশে ফিরে ধর্মীয় আলোচনা চক্রের আয়োজন করেন এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অমিত গুহের এই অধ্যায় প্রমাণ করে দিল, সত্যিকারের বিশ্বাস ও সংকল্প থাকলে কোনও দূরত্ব বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।