OMG! প্রসূতি মায়েদের গোপন ভিডিও ফাঁস, ‘মহাকুম্ভ স্নানের’ ভিডিও বলে করা হচ্ছে বিক্রি!

গুজরাতের রাজকোটে পায়েল ম্যাটারনিটি হাসপাতালের গোপনীয় ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা মহিলা রোগীদের পরীক্ষার সময় গোপনে ভিডিও করা হয় এবং তা ইউটিউব ও টেলিগ্রামে আপলোড করা হয়। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাইবার অপরাধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সূত্রের খবর অনুযায়ী, “মেঘা এমবিবিএস” নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে অন্তত সাতটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ভিডিওগুলি দেখার জন্য ৯৯৯ থেকে ১৫০০ টাকার বিনিময়ে টেলিগ্রাম সাবস্ক্রিপশন অফার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ভিডিওগুলোর থাম্বনেইলে “মহা কুম্ভ স্নানের” মতো বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়েছিল, যাতে আরও বেশি দর্শক ক্লিক করেন।

কীভাবে ফাঁস হল হাসপাতালের ভিডিও?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ভিডিওগুলি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন মহিলা ডাক্তার ও নার্স প্রসূতি মায়েদের পরীক্ষা করছেন। গুজরাত পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহকারী কমিশনার হার্দিক মাকাদিয়া জানান, “অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউটিউব ও টেলিগ্রামে ভিডিও বিক্রির জন্য স্ক্রিনগ্র্যাব শেয়ার করেছিল। টেলিগ্রাম গ্রুপে ৯০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে।”

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টেলিগ্রাম গ্রুপটি খোলা হয় এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ইউটিউব চ্যানেলটি সক্রিয় হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছিল।

হাসপাতালের দাবি: সিসিটিভি হ্যাক!
এই ঘটনার পরই হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের সিসিটিভি সিস্টেম হ্যাক করা হয়েছে। হাসপাতালের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা কোনো ভুল করিনি। পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—গোপন পরীক্ষার ঘরে কেন সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল?

আইনি পদক্ষেপ ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা
গুজরাত পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ইউটিউব ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, সাইবার পুলিশ টেলিগ্রাম ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছে, যাতে ভিডিওগুলি দ্রুত মুছে ফেলা হয়।

রোগীদের গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত?
এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, হাসপাতালের গোপনীয়তা ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ? শুধু রাজকোট নয়, দেশের অন্যান্য হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

এই ঘটনার পর, হাসপাতালের গোপনীয় তথ্য রক্ষায় আরও কঠোর নিয়ম লাগু করার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনও হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা পরিকাঠামো পর্যালোচনা করতে উদ্যোগী হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।